খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:০৯ পিএম
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৩৩ পিএম
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ন্যায্য ও টেকসই রূপান্তরের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলের কাছে ১৩ দফা দাবিনামা উত্থাপন করেছে খুলনার নাগরিক সমাজ। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম, খুলনা’ জ্বালানি খাতে ন্যায্য রূপান্তরের লক্ষ্যে ১৩ দফা দাবিনামা উপস্থাপন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে এক সংকটময় সময় পার করছে। গত দেড় দশকে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এ সময়ে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ, প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার ২৩২ কোটি টাকার লোকসান এবং প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির চাপ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
বক্তারা বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক অঙ্গীকার জরুরি। নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি খাতের দ্রুত সবুজায়ন প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যত দ্রুত অগ্রসর হওয়া যাবে, তত দ্রুত আমদানি-নির্ভর ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানানো হয়, আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সবুজ জ্বালানি বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাংবাদিক ও গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দী। আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সৈয়দা রেহেনা ঈসা, এনামুল হক, মোস্তফা জামাল পপলু, হাসান হিমালয়, রকিবুল ইসলাম মতি, মাহবুব আলম প্রিন্স, সাদিয়া রওশন অধরা প্রমুখ।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে এই দাবিনামা রাজনৈতিক দল, নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং জ্বালানি খাতে ন্যায্য রূপান্তরে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।