রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৪৭ পিএম
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৫৩ পিএম
রংপুর বিভাগে শীতের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। দিনের বেলায় রোদের তাপে উষ্ণতা থাকলেও রাত ও ভোরে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। একই সঙ্গে শীতকে ঘিরে নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় গরম কাপড় ও জুতার কেনাবেচাও বেড়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রংপুর বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বনিম্ন ১১ ডিগ্রি, নীলফামারীর ডিমলায় ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ১২ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১২ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি, রংপুরে ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং গাইবান্ধায় ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় অগ্রহায়ণের শেষের দিক থেকে উত্তরে শীত পড়তে শুরু করে। মঙ্গলবার সারা দেশের মধ্যে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়াসহ দিনে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এরপর থেকে রংপুর বিভাগের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
এদিকে শীতের সঙ্গে রংপুরে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি, জ¦র, কোল্ড ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছে নানা বয়সি মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছেন বিপাকে। দিনে গরম এবং রাতে ও সকালে ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে রোগীর চাপে পা ফেলার জায়গা নেই। শিশু বিভাগেও বেড়েছে রোগীর সংখ্যা।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. জামাল উদ্দিন বলেন, শীতজনিত রোগ থেকে বাঁচতে গরম কাপড় পরিধান করা, গরম ও পুষ্টিকর এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি এবং প্রয়োজনে গরম পানি পান করা, মাস্ক পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিতে হবে। জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও দীর্ঘদিন কাশি থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখাতে হবে।
শীত বাড়ার সঙ্গে রংপুরে অভিজাত শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতে সমানতালে শীতের কাপড় ও জুতা কেনাবেচা হচ্ছে। শীতকে ঘিরে দোকানগুলোতে দেওয়া হয়েছে মূল্য ছাড়। নিম্ন আয়ের মানুষেরা ফুটপাতের পুরাতন গরম কাপড়ের দোকান ভিড় জমাচ্ছেন।
নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ের জুতার শো-রুমের বিক্রয়কর্মী আমজাদ হোসেন বলেন, শীতের প্রকোপ বেশি হওয়ায় কয়েক দিন ধরে জুতার বিক্রি বেড়েছে। শিশু, যুবক, বৃদ্ধসহ সব বয়সি জুতা কিনছেন। আশা করছি চলতি শীতে ভালো বিক্রি হবে।