চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৫৩ পিএম
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:০২ পিএম
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে বিশেষ মশকনিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ কার্যক্রমের আওতায় নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে মশকনিধন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের
উদ্যোগে ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে আয়োজিত মশকনিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর স্বাস্থ্য
সুরক্ষায় মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে
কাজ করছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম
পরিচালনা করা হবে। মশা নিয়ন্ত্রণে আমরা আমেরিকা থেকে বিটিআই নামের একটি অত্যন্ত কার্যকর
মশার লার্ভা নিধক ওষুধ পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে বেশ ভালো ফল পাচ্ছি।
এছাড়া, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া
হয়েছে ওয়ার্ডভিত্তিক মশকনিধন কার্যক্রম মনিটরিং করতে। স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট, এক্সিকিউটিভ
ম্যাজিস্ট্রেট এবং ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছেÑ
প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কারো গাফিলতির কারণে জমাটবদ্ধ পানিতে মশা জন্মালে
জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। প্রয়োজন অনুযায়ী লোকবল, যন্ত্রপাতি ও কীটনাশক
ব্যবহারের মাধ্যমে মশার লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ
অপরিহার্য।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা
ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট জোন কর্মকর্তা জাহেদুল্লাহ রাশেদ,
আবু তাহের প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে
১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং
অভিযান আরও জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
চসিক মেয়র আরও বলেন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পানি জমতে পারে এমন পাত্র উল্টে রাখা বা ঢেকে রাখা এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ওয়ার্ডভিত্তিক জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রাম, পানির ট্যাংক, ফ্রিজের ট্রে ও আশপাশের খোলা জায়গায় তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়ার আহ্বান জানান।