চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:২৮ পিএম
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৩ পিএম
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং মৌজার ইছাছড়ি গ্রামে সরকারি খাসজমি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আবু ছালেক, মুরাদ সওদাগর, শহীদুল ইসলাম খোকনসহ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। সরকারি ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি সম্পূর্ণভাবে ১নং খতিয়ানভুক্ত এবং সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, কক্সবাজারের নামে নথিভুক্ত।
ভূমি অফিস সূত্র ও রেকর্ড পর্যালোচনায় জানা যায়, হারবাং মৌজার ইছাছড়ি গ্রামের সিট নং-১২, বি.এস দাগ নং-১৬৭৩৪-এর সম্পূর্ণ অংশই সরকারি খাসজমি। সংশ্লিষ্ট দাগে কোনো ব্যক্তি মালিকানার রেকর্ড নেই। অথচ বাস্তবে ওই দাগে সীমানা প্রাচীর, স্থাপনা ও দখলচিহ্ন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি জমির ওপর গড়ে তোলা স্থাপনাগুলো কোনো অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, খাসজমি দখল করে সেটিকে ব্যক্তি মালিকানার মতো ব্যবহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষ এখনও উচ্ছেদ বা স্থাপনা অপসারণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, খাসজমিটি দীর্ঘদিন অনাবাদি থাকায় পার্শ্ববর্তী প্রভাবশালীরা ধীরে ধীরে দখল শুরু করে। বর্তমানে তারা পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমির সঙ্গে সরকারি জমি একীভূত করে স্থাপনা গড়ে তুলেছে। প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে হারবাং ভূমি অফিসের তহসিলদার সাইফুল ইসলাম বলেন, বি.এস দাগ নং ১৬৭৩৪ খাসজমি। তবে কতটুকু খাস, তা নির্ধারণে সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ করা প্রয়োজন।
তবে ভূমি বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, একটি দাগ যখন সম্পূর্ণভাবে ১নং খতিয়ানভুক্ত সরকারি খাসজমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত, তখন ‘কতটুকু খাস’Ñ এমন বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল। নিয়ম অনুযায়ী, খাসজমিতে কোনো অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত হলেই তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ ও জমি উদ্ধারের বিধান রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু ছালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পুরো জায়গা খাস তা বলা যাবে না।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব বলেন, হারবাং ইছাছড়ি এলাকায় সরকারি খাসজমি জবরদখলের বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে সরেজমিন তদন্ত করে রেকর্ডপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।