টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৫৫ পিএম
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:২৮ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তবর্তী এলাকা। প্রবা ফটো
এক বছর বন্ধ থাকার পর নতুন করে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গোলাগুলি শুরু হওয়ায় কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত-সংলগ্ন পাঁচটি গ্রামের মানুষের জীবন ও জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর পাঁচটা থেকে প্রায় চার ঘন্টা রাখাইনের মংডু টাউনশিপের উত্তরে বলিবাজার, সায়েরবিল এবং নাফ নদীর তোতার দ্বীপে গোলাগুলি হয়। গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কে আছেন টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তের বাসিন্দারা।
বেশ কয়েক দিন ধরে রাখাইনের সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান আর্মির অবস্থানে নতুন করে হামলা চালাচ্ছে সরকারি জান্তা বাহিনী। মূলত ওপার সীমান্তে তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়াসহ বিলাসী দ্বীপ এবং হসের দিয়া নামক দ্বীপ রয়েছে। এর মধ্য তোতার দিয়া আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে। এসব জায়গা দখল এবং পূনরুদ্ধার নিয়ে গোলাগুলি-মর্টারশেল বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটছে।
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের ৮০ শতাংশ (২৭১ বর্গ কিলোমিটার) এলাকা দখলে নেয় আরাকান আর্মি। এরপর টানা এক বছর কোনো সংঘর্ষ হয়নি। এখন নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
ওই গ্রামগুলোর অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে ঘরবাড়িতে গুলি এসে পড়ছে। এতে আতঙ্কে ভুগছেন তারা। আর ঝুঁকিতে আছেন নাফ নদীতে মাছ ধরা হাজারও জেলে।
এ বিষয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, ‘দুই দিন ধরে আমার সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি-মর্টারশেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। গত এক মাসে ৪-৫ বার মিয়ানমান থেকে এপারের বসতবাড়িতে গুলি এসে পড়েছে।’
ইউপি সদস্য বলেন, সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকাগুলোর মধ্য উত্তর পাড়া, কোনা পাড়া তুলাতলী, খারাইংগা ঘোনা, বালুখালীতে বসবাসকারী অন্তত আট হাজার মানুষ ভয়ভীতির মধ্য রয়েছে। কারণ, ওপার থেকে আসা কিছু গুলি কয়েকটি বাড়ির টিনের চালা ছিদ্র হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, এই এলাকায় ১২’শ জেলে রয়েছে। এদের মধ্য সীমান্তের কাছাকাছি চারশো থেকে পাঁচশ পরিবারের বসবাস। গোলাগুলির কারণে মাছ ধরতে না যাওয়ায় এসব পরিবারের দুর্দিন যাচ্ছে।
সীমান্তের কাছাকাছি বাস করেন জাফর আলম। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ভোরে ঘুম ভাঙে বৃষ্টির মতো গুলির শব্দে। মনে হচ্ছিল, আমাদের চারপাশেই যুদ্ধ চলছে। সেসময় শিশু, জোয়ান, বৃদ্ধ সবাই ভয়ে ছিল।’
গত শনিবার ওপার থেকে আসা গুলি এপারের পাচঁ ব্যক্তির বাড়িতে পড়েছে, যার একটি সরওয়ার আলমের। তিনি জানান, গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে সন্তানদের নিয়ে ঘরের এক কোণে আশ্রয় নেন। এ সময় হঠাৎ একটি গুলি এসে তার ঘরের টিনের চালে আঘাত করে। চাল ফুটো হয়ে গুলিটি ঘরের ভেতরে পড়ে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলি ঘটনার পর আমরা সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের কোনো প্রয়োজন ছাড়া সেদিকে চলাফেরা না করতে বলেছি। পাশাপাশি ওই এলাকায় স্থানীয়দের নিরাপত্তা বিষয়টি নজরদারীতে রাখে সেজন্য বিজিবির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এছাড়া আমাদের জনপ্রধিনিদের সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।’
উখিয়াস্থল ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসিম উদ্দিন বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।