× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হাওরে পানি নামতেই বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক

মনিরাজ শাহ, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:১৭ পিএম

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৩১ পিএম

হাওরে পানি নামতেই বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে শুরু হয়েছে বোরো ধানের রোপণ। একদিকে হাওরের জমি থেকে নামছে পানি, অন্যদিকে সেই জমিতে নেমে পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। যদিও এখনও পুরোপুরি রোপণ শেষ হয়নি,তবুও ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

শীতের কনকনে সকালে কৃষকদের দেখা যাচ্ছে জমিতে কাজ করতে। কেউ জমিতে পানি ধরে রাখছেন, কেউ হালচাষে ব্যস্ত, আবার কেউ চারা রোপণে মগ্ন। শিশু ও নারীরা ধানের হালি চারা আঁটি বাঁধার কাজে সহযোগিতা করছেন। হাওরে ধান চাষে কৃষকরা ব্যস্ত থাকায় দিনের বেলায় স্থানীয় বাজারগুলোতে লোকজনের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হাওর অঞ্চলের দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণ ও দাদনের মাধ্যমে ধান আবাদ করেন। ফসল ঘরে তুললেও এর বড় একটি অংশ চলে যায় দেনা পরিশোধে। ফলে ফসল তোলার মাত্র এক-দুই মাসের মধ্যেই অনেক কৃষকের গোলা শূন্য হয়। এরপর শ্রম বিক্রি ও ধার করে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। তবে কৃষকরা আশাবাদী, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে এবং সেই সঙ্গে ঘুচবে দারিদ্র্য ও ঋণের বোঝা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া, আঙ্গারুলি সহ ২৩টি ছোট-বড় হাওরে সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে এ পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জাতের ধান চাষ বেশি হয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, কৃষকরা পুরোদমে চারা রোপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক ইউনুছ আলী জানান, তিনি প্রায় ২৪ কেয়ার জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছেন। বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন, হালচাষ ও চারা রোপণসহ প্রতি কেয়ার জমিতে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জমি বর্গা, ডিজেল ও সারের দাম বৃদ্ধির কারণে বোরো আবাদে খরচ বেড়েছে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি।

গোবিন্দ শ্রী গ্রামের কৃষক সেলিম আখঞ্জি বলেন,গত বছর শ্রমিকের মজুরি ছিল ৫০০ থেকে সাড়ে ৫৫০ টাকা। এবার তা বেড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সেচ খরচ, সার, বীজ ও কীটনাশকের দামও বেড়েছে।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আলী নবাব বলেন, আমরা পাঁচজনের একটি দল গঠন করে চারা রোপণ করি। দিনে দুই কেয়ারের বেশি জমিতে চারা রোপণ করা যায়। এতে দৈনিক জনপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয়। তবে অনেক সময় কাজ না থাকায় আয়ও বন্ধ থাকে।

হাওর-তীরবর্তী তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, তাহিরপুরের হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা অনেকটাই বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল। গত বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় এবার অধিকাংশ কৃষক ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, উপজেলার সব হাওরেই নির্ধারিত সময়ে বোরো ধান রোপণ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা