বেতাগী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৪৭ পিএম
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:০৯ পিএম
বরগুনার বেতাগী ও বামনা উপজেলার মধ্য বিষখালী নদীতে জেগে ওঠা রুহিতার চরের স্থায়ী সীমানা ও বিরোধপূর্ণ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার সর্বস্তরের নাগরিকের ব্যানারে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে দুই উপজেলার মধ্যে বিরোধ চলছে এবং চরটির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রুহিতার চরের জমি বামনা ও বেতাগী দুই উপজেলারমধ্যে সমানভাবে বিভক্ত করে মানুষ ভোগদখল করে এসেছে। কিন্তু গত ৫ আগস্টদেশের পটপরিবর্তনের পর পুরো রুহিতার চর বামনা উপজেলার মানুষ দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। এ সময় চরে বেতাগী উপজেলার মানুষের ফলানো ধান-ডালসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল লুটপাট করে তুলে নিয়ে গেছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয়রা জানান, বেতাগীর বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীভাঙনের কবলে পড়ে অসংখ্য পরিবার ভূমিহীন অবস্থায় রয়েছে। মূলত রুহিতার চরের অংশটি বেতাগী মৌজার মধ্যে পড়েছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিষয়টি না বুঝে জোরজবরদস্তি করে চরটি দখলে নিতে চায়।
নদীর দুই তীরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই চরটির মালিকানা দাবি করা বেতাগী উপজেলার কালিকাবাড়ী এলাকার কৃষকরা পাওয়ার ট্রিলার ও মাহিন্দ্রা নিয়ে চরে চাষ করতে গেলে বামনা উপজেলার লোকজন তাদের কয়েকটি পাওয়ার ট্রিলার ও মাহেন্দাসহ দুজন চাষিকে ধরে নিয়ে যায়। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে বামনা উপজেলার কৃষকদের প্রায় একশত মহিষ কালিকাবাড়ীর কৃষকরা নিয়ে যায়। এ ঘটনাটি বেতাগী ও বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জানালে তারা উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন. গত ৩০ জুলাই দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উভয়পক্ষকে ডেকে চলতি শুকনো মৌসুমে চরটি মেপে যে উপজেলা যতটুকু পাবে তাদের বুঝিয়ে দিয়ে সীমানা করে দেওয়ার এমনই আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল তখন। কিন্ত দুরভাগ্যেজনক হলেও সত্যÑ বেতাগী উপজেলার বুড়ামজুমদার ও কালিকাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও মামালার আসামি জাকির হোসেন (৩০)সহ একাধিক আসামি অভিযোগ করেন, চরসংশ্লিষ্ট বামনা উপজেলার পূর্ব সফিফুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল হাশেম মল্লিকের ছেলে মো. হারুণ মল্লিক ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় তারাসহ বেতাগী উপজেলার ২২ জন নিরীহ কৃষকের বিরুদ্ধে বরগুনার বামনায় বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (মামলা নং-৩৩৫, তারিখ: ২৪-১১-২০২৫) তাছাড়াও সিআর ২১২, তারিখ: ০৯-১২-২০২৫ এবং ৩৫৫,তারিখ: ৩-১২-২০২৫ তাদের বিরুদ্ধে আরও দুইটি মামলা করা হয়েছে।
মামলার অপার আসামি আব্দুর রব সিকদার (৬০) বলেন, মামলাগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যাও বানোয়াট। অবশ্য মামলার বাদী মো. হারুণ মল্লিকের সঙ্গে মুঠোফেনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বেতাগী উপজেলার সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাবেক পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান কবির বলেন, বেতাগীর শতশত একর জমি ভেঙে ওপাড়ে বামনা উপজেলায় চর জেগেছে। ওই চরটি নিয়ে বেতাগী ও বামনার সঙ্গে আমাদের অমীমাংসিত একটি ঝামেলা রয়েছে। ওই চরটির অধিকাংশ সম্পত্তি বেতাগী উপজেলার। ভাঙনে বেতাগী উপজেলার অনেক মানুষ ভুমিহীন হয়ে গেছে এবং তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে এ বিষয়ে দুই উপজেলার ইউএনও, এ্সিল্যান্ড ও অফিসার ইনচার্জদের নিয়ে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব। আশা করি, এর মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছতে পারব।