কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৫২ পিএম
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় রাজাপুর রাস্তার বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ধরে রামশীল ইউনিয়নের রাজাপুর রায় বাজার হতে পশ্চিম দিকে নিলকান্ত সমদ্দারের বাড়ি পর্যন্ত ৭৫০ মিটার এবং শিবমন্দির থেকে রাজাপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত ৭৫০ মিটার ইটের রাস্তাটি ভেঙে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়ে বেহাল দশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এটা এখন গ্রামীণ সড়ক নয়, যেন মারণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিগত পাঁচ বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাস্তাটি ইট দিয়ে এইচবিবি করার পর আর কার্পেটিং করা হয়নিÑ যার কারণে রাস্তার ইট উঠে মাঝে মাঝে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
পানি জমে থাকায়
দুই পাশের ইট মাটি ভেঙে সরে গিয়ে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। বর্তমানে রাস্তাটির এমন করুণ
দশা হয়েছে যে পণ্যবাহী কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পারায় গ্রামবাসী তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয়
জিনিসপত্র ও কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারছে না।
এই রাস্তাটির ওপর
দিয়ে প্রতিদিন এলাকার শত শত মানুষের পয়সারহাট বাজার ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের হেঁটে
যেতে হয়। এ ছাড়াও ত্রিমুখী বাজার ও রামশীল কলেজের শিক্ষার্থীদের যেতে হয় হেঁটে।
রাজাপুর গ্রামের
মুদি ব্যবসায়ী রমেশ গাইন বলেন, রাস্তাটি ভাঙাচোরার কারণে কোনো গাড়ি আসতে চায় না। এজন্য
সময়মতো দোকানের মালামাল আনতে পারছি না।
অটোচালক অমল জয়ধর মনতোষ
সমদ্দার বলেন, রাস্তাটি ভাঙাচোরার কারণে যাত্রী উঠতে চায় না ঝাঁকি লেগে কোমর ব্যথা
হয়ে যায় এবং গাড়ির চাকায় প্রচণ্ড ক্ষতি হয়। সমাজসেবক অতুল অধিকারী বলেন, এই রাস্তাটি
ভেঙেচুরে ইট-মাটি দুপাশ থেকে সরে গিয়ে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
কলেজ শিক্ষার্থী
লোপা গাইন বলেন, আমাদের এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে চুরে বেহাল অবস্থা হয়ে পড়ে আছেÑ
যার কারণে কোনো ভ্যান-রিকশা চলতে পারে না, হেঁটে আমাদের স্কুল-কলেজে যেতে হয়। এ ছাড়াও
কোনো অসুস্থ রোগীকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। কারণ এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে
নিতে গেলে ঝাঁকিতে ঝাঁকিতে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যায়। আমরা সরকারের কাছে রাস্তাটি দ্রুত
পাকা করে দেওয়ার দাবি জানাই।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. সফিউল আজম জানান রাস্তাটি যদি ডিপিবি তালিকায় থাকে তাহলে দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা আছে আর যদি না থাকে তাহলে একটু সময় লাগবে। তবে সব রাস্তাই পর্যায়ক্রমে পাকা হবে।