চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২৯ পিএম
জাহাজভাঙা শিল্পশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৩৬ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। একই সঙ্গে ২০১৮ সালে ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি রোয়েদাদ অনুযায়ী বেতন না দেওয়া ও ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা বাস্তবায়ন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানান জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের নেতারা।
এ সময় বক্তব্য দেন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইয়ার্ড মালিকরা শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টার স্থলে দৈনিক ১২ ঘণ্টা কাজ করাচ্ছেন। এ ছাড়া তারা মাসিক ১৬,০০০ টাকা প্রদানকে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন বলে দাবি করছে, যা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তিনি আরও বলেন, আজ বাংলাদেশ জাহাজভাঙা শিল্পে বিশ্বের প্রথম স্থানে অবস্থান করছে। দেশব্যাপী নির্মাণ খাতে ব্যবহৃত স্ক্র্যাপ লোহার প্রায় ৬০ শতাংশ আসে এ শিল্প থেকে। সরাসরি ৮-১০ হাজার শ্রমিক এবং পরোক্ষভাবে প্রায় এক লক্ষাধিক মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। জাতীয় জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ০.৫ শতাংশ। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত যাদের শ্রমে দাঁড়িয়ে আছে, সেই শ্রমিকদের ন্যূনতম জীবনমান আজও নিশ্চিত হয়নি। ২০১৮ সালের ঘোষিত ন্যূনতম মজুরিও বাস্তবায়িত হয়নি।
এ সময় শ্রমিক নেতারা মজুরি বোর্ডের কাছে চলতি বছরের জাহাজভাঙা শিল্প শ্রমিকদের গ্রেড-৪-এর ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩৬ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, সবকিছু বিবেচনায় ৩৬ হাজারের কম টাকা বেতন কোনোভাবে যৌক্তিক নয়। এ সময় তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে পাঁচ দফা দাবি জানান। এতে ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম নাজিম উদিন, সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।