বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৮ পিএম
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার দাউদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা। প্রবা ফটো
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার দাউদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় কাগজে–কলমে প্রথম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০৪ জন কিন্তু উপস্থিত নেই একজনও। কাগজে শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করাদের মধ্যে কেউ কেউ পড়ে অন্য বিদ্যালয়ে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, প্রথম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ১০৪ জন। তবে মঙ্গলবার (৯) ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থীও উপস্থিত নেই। অথচ অবাক করার বিষয় এই শাখায় কর্মরত রয়েছেন চারজন শিক্ষক। অফিস কক্ষে বসে মোবাইল ফোনে সময় কাটাতে দেখা যায় তাদের। হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষরও রয়েছে, মাস শেষে উত্তোলন করা হচ্ছে বেতন।
আরও দেখা যায়, পাশেই নতুন ভবনে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি থাকায় দূর থেকে পুরো চিত্র বোঝা কঠিন। তবে মাদরাসাটির ভেতরে রয়েছে এক অদ্ভুত নীরবতা। পুরোনো টিনশেডের কক্ষগুলো তালাবদ্ধ, ভেতরে ধুলোমাখা বেঞ্চ–টেবিল। কোথাও ভাঙাচোরা আসবাবপত্র এক পাশে স্তূপকৃত, জানালা–দরজায় মাকড়সার জাল। দেখে বোঝার উপায় নেই—এটি একটি চলমান এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাকি পরিত্যক্ত ভবন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কার্যত কোনো শিক্ষার্থী নেই। শুধু কাগজে উপস্থিতি দেখিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু দেখানো হয়। এর আড়ালে নিয়মিত বেতন ও সরকারি সুযোগ–সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, প্রশাসনিক তদারকির অভাবেই এমন অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ চরমে। আলতাব ও সোহেল হোসেনের ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থী ছাড়াই শিক্ষক বহাল রাখা বড় ধরনের দুর্নীতি। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য বিষয়টি আংশিক স্বীকার করলেও দায় চাপাচ্ছেন উপবৃত্তি না পাওয়া এবং পাশের দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর।
কাগজে শিক্ষার্থী হিসেবে যাদের দেখানো হয়েছে তাদের মধ্যে সাজিদ,আরিফ নামে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, তারা দাউদপুর দাখিল মাদ্রাসায় পড়ে না। পাশের দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। আর আজমাইন নামে এক প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থী জানায়, সে বদলগাছী সদরের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।
এ বিষয়ে দাউদপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার সেকেন্দার আলী সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কিছু শিক্ষার্থী আছে, তবে উপবৃত্তি না পাওয়ায় তারা নিয়মিত আসে না। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে নিউজ না করলেই ভালো হয়। আগামী বছর থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে।
ইবতেদিয়া শাখার চার শিক্ষকও তহুরা খাতুন (ইবতেদায়ি প্রধান), রেজাউল করিম (মৌলভী), শরিফুল ইসলাম (সাধারন শিক্ষক) ও সুফিউল্লাহ(ইবতেদায়ী কারি) একই সুরে জানান, উপবৃত্তি না থাকায় শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসামুখী হচ্ছে না। তাই এ বছর শিক্ষার্থী নেই। তবে আমরা নিয়মিত মাদ্রাসায় আসি। আগামী বছর শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে। আমরা যোগাযোগ করছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। তাদের কাছে আমি জবাব চেয়েছি। যেহুতু মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে রয়েছে। আমরা মাদ্রসা বোর্ড কে এ বিষয়ে অবগত করবো।
দাউদপুর দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জুয়েল সরদার শিক্ষার্থী শূন্যের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গত তিন মাস আগে আমি সভাপতি হয়েছি। তাদের শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে নির্দেশ দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি সেখানে গিয়েছি। শিক্ষার্থী কেন তার কারণ জানতে চেয়েছি। আমরা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কে এ বিষয়টি অবগত করব।