নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ অফিস
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:০৪ পিএম
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:২১ পিএম
নারায়ণগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। সাধারণত এসব শিক্ষকরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন । প্রার্থীদের এই বৈঠক ভোটে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
জানা গেছে, গত কয়েকদিনে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে জামায়াতের দু্ই প্রার্থী তাদের নিজস্ব ফেসবুক একাউন্ট ও পেজে এসব সভার ছবিও প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার এ সভার কয়েকটি ছবিও তারা দুজন প্রকাশ করেছেন। এতে বেশ কয়েকটি স্কুল ,কলেজ ও মাদ্রাসার নামোল্লেখ বিদ্যমান।
উল্লেখ্য, জামায়াত মনোনীত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আবদুল জব্বার।
বৃহস্পতিবার নিজ ফেসবুক পেজেও আদর্শ স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন দুই প্রার্থী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরীর একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, তারা এসে আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। আমরা তো আর না করতে পারি না। ওনারা কথা বলেছেন, আমরা শুনেছি, এই পর্যন্তই। এটি একটি সামাজিকতা।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, জামায়াতের এ এ ধরনের কার্যক্রম নির্বাচনী মাঠের নিরপেক্ষকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে। এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এটি সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা তৈরিতে কাজ করবে। কেননা ভোটগ্রহণের সময় শিক্ষকরা দায়িত্বে থাকবেন। সেক্ষেত্রে যদি তাদেরকে আগে থেকেই দলীয়ভাবে প্রশিক্ষণ ও তালিম দেওয়া হয় তাহলে নির্বাচন কলুষিত হবে। এভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অন্তরায়।
তবে, শিক্ষকদের সঙ্গে এ ধরনের সভা নির্বাচনকে ‘প্রভাবিত’ করার উদ্দেশ্যে নয় বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির মহানগর শাখার আমীর আবদুল জব্বার।
তিনি বলেন, আমরা না হলেও দুইশো’ প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি, সালাম দিয়েছি, দোয়া চেয়েছি। কিন্তু এইগুলো কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ। আমাদের মূলত দু’টি বিষয়- যদি নির্বাচিত হই, তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে কী কাজ করবো এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।
জেলা নির্বাচন অফিসার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে প্রার্থীদের মতবিনিময় সভার বিষয়টি আমরা আগে শুনিনি। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পর তারা আর এটি করতে পারবেন না। কাল থেকে এমন কোনো কার্যক্রম আমাদের নজরে এলে তা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হবে।