খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প
খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:১৯ পিএম
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:২১ পিএম
খুলনায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে প্রায় ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-২) এর প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক পাঠানো চিঠির মাধ্যমে খুলনা ওয়াসা প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে।
তবে এ বিশাল অঙ্কের উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংস্থার ভেতরে তদ্বিরবাজি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ৬০০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন, ৪২ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন পাইপলাইন, ৪২টি ওভারহেড ট্যাঙ্ক ও ৪টি রিজার্ভয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া এলাকাগুলোও এ প্রকল্পের আওতায় আসবে।
ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, আওয়ামী তদ্বিরে চাকরি পাওয়া এক প্রকৌশলীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পিডি করার জন্য ঢাকার এক আলোচিত ছাত্র নেত্রীকে খুলনায় এনে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। এক বোর্ড সদস্য নাকি মোটা অঙ্কের বিনিময়ে এ তদ্বিরে যুক্ত ছিলেন বলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পিডি পদের প্রতি আগ্রহী ওই প্রকৌশলী অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে নিজেকে সাবেক শিবির নেতা পরিচয় তুলে ধরে বিভিন্ন মহলে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সচেতন মহলের প্রশ্ন এ ধরনের প্রভাব খাটানোর পেছনে কি বড় ধরনের অনিয়মের উদ্দেশ্য জড়িত?
এ বিষয়ে খুলনা ওয়াসার নবনিযুক্ত এমডি মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ওটা নিয়ে আমরা একটা জায়গায় আসছি। আপনার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবানি। সমস্যা নেই।’ তবে পিডি নিয়োগে চাপ প্রয়োগের অভিযোগে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, গতকাল দুপুরের আগে ঢাকার একজন আলোচিত সমন্বয়ক ও একটি নতুন রাজনৈতিক দলের নেত্রীর নেতৃত্বে পাঁচজনের একটি দল এমডির কক্ষে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সেখানে মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট প্রকৌশলীর ফাইল দ্রুত প্রসেস করতে সরাসরি চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। বৈঠকের পর এমডি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ফাইল প্রস্তুতির নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পিডি নিয়োগের বিষয়ে এমডি চারজনের নাম উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য পত্র পাঠিয়েছেন, যাদের একজনও চতুর্থ গ্রেডধারী নন, যা নিয়োগনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
খুলনা ওয়াসা শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সদস্য সচিব মো. মুকুল হোসেন বলেন, ওয়াসার সব শ্রমিক-কর্মচারীর পক্ষ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কোনো দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসর কর্মকর্তাকে যেন পুনর্বাসন না করা হয়।
পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন ইতোমধ্যেই প্রকল্পের কিছু উপাদান নিয়ে আপত্তি তুলেছে। সব মিলিয়ে পিডি নিয়োগ ঘিরে তদ্বির, আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ সত্য হলে প্রকল্পের মান, ব্যয় ও স্বচ্ছতা গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।