শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:১৯ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুরে গজারি বন থেকে বোরকার কাপড় দিয়ে মুখ আগুনে পোড়ানো সেই অজ্ঞাত নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। হত্যাকারী রাসেলকে (২৪) গ্রেপ্তার এবং হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির আহমদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের পাচুলটিয়া (গুপ্তবাইদ) গজারি বাগানের বুলু সরকারের আবাদি জমি থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। অজ্ঞাত ওই নারীর লাশ উদ্ধারের সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম, গলায় ওড়না পেঁচানো এবং ডান পায়ের মাংসবিহীন হাড় ছিল, নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরনের বোরকার কাপড় দিয়ে মুখের ওপর আগুনে পোড়া দাগ ছিল।
ভিকটিম নারী সুমা আক্তার (২৫) নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার কচুয়ারচর গ্রামের মৃত বাবুল মিয়ার মেয়ে। সে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া (ফখরুদ্দিন মোড়) আমান উল্লাহর বাড়িতে ভাড়া থেকে বৈরাগীরচালা এলাকার ঢাকা গার্মেন্টস পোশাক কারখানায় চাকরি করত।
গ্রেপ্তার রাসেল শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের পাচুলটিয়া কামাল হোসেনের ছেলে। সেও বৈরাগীরচালা এলাকার ঢাকা গার্মেন্টস পোশাক কারখানায় চাকরি করত। শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে ওঠানো হলে সে আদালতে নারী পোশাক শ্রমিককে হত্যার কারণসহ হত্যার কথা স্বীকার করে জবাননন্দি দেয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির আহমদ বলেন, ভিকটিম নারী পোশাক শ্রমিক সুমা আক্তার তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে ৭-৮ বছর পূর্বে বিবাহবিচ্ছেদ (ডিভোর্স) হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন বছর ধরে সে আলাদাভাবে বসবাস করছে। তার দুটি কন্যাসন্তান তার মায়ের সঙ্গে থাকে। তিন মাস আগে সে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া (ফখরুদ্দিন মোড়) আমান উল্লাহর বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় বৈরাগীরচালা এলাকার ঢাকা গার্মেন্টস পোশাক কারখানায় চাকরি নেয়। আসামি রাসেল ও ভিকটিম সুমা আক্তার একই পোশাক কারখানায় চাকরি করায় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাদের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হলে এবং ভিকটিম কনসেপ্ট হয়। পরে রাসেলকে বিয়ের কথা বললে সে বিয়ে করবে বলে সময় পার করে। তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুমা আক্তারকে গোসিংগার পাচুলটিয়া (গুপ্তবাইদ) গজারি বাগানে নিয়ে গেলে তাদের মধ্যে বিয়ে নিয়ে কথা হয়। একপর্যায়ে আসামি রাসেল সুমা আক্তারকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল, ঘুসি, লাথি মেরে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা মমতা বেগম (৭০) শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ আসামি রাসেলকে গ্রেপ্তার করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে। ৭ ডিসেম্বর রাত ৭টা থেকে ১০ ডিসেম্বর বিকাল পৌনে ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় আসামি পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ওই স্থানে ফেলে রাখে এবং আলামত গোপন করার জন্য পরনের বোরকার কাপড় দিয়ে মুখ আগুনে পুড়িয়ে দেয়।