নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:১১ পিএম
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৪০ পিএম
সরকারি গাছ কেটেছি আমি বুঝব আর সরকার বুঝবে তুই অভিযোগ করার কে? যেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের মাথাব্যথা নেই সেখানে তোর এত চুলকানি ক্যা বলেই দেশীয় অস্ত্র রামদা-হাঁসুয়া নিয়ে বাদীর ওপর হামলা করা হয়।
করা হয় ভাঙচুর ও লুটপাট। এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৫নং ইউনিয়নের বর্ষণ গ্রামে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হামলার শিকার বর্ষণ গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে পুটু মিয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০শে অক্টোবর বর্ষন গ্রামে সরকারি জায়গা থেকে ১৫টি তাল গাছ, ১০টি ইউক্যালেপ্টাস গাছ ও ১টি কড়ই গাছ কেটে বিক্রি করেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা যুবলীগ নেতা বর্ষন গ্রামের কামরুল, মাহবুর, রফিকুল, জিয়ারুল, মুকছেদ আলী। এই ঘটনায় জনস্বার্থে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পুটু মিয়া।
তদন্তে ঘটনার সত্যতা পায় ভূমি কর্মকর্তা। এরপর অভিযোগের প্রায় দীর্ঘ ২মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়েরসহ সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি গ্রহন করেন পুটু মিয়া। অভিযুক্তরা বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার (১২ই ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় জৈনিক শাজাহান আলীর বাড়ির সামনে পুটু মিয়ার পথরোধ করে এবং বলে সরকারি গাছ কেটেছি, তা আমি বুঝবো আর সরকার বুঝবে, তুই অভিযোগ করার কে? যেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের মাথা ব্যাথা নেই' সেখানে তোর এত চুলকানি ক্যা বলেই হামলা করে বাদী পুটু মিয়ার উপর।
এসময় পুটু মিয়া পালিয়ে গেলে অভিযুক্তরা বর্ষন গোদাগাড়ি নামক স্থানের পুটু মিয়ার ঘর ভাংচুর করে। সেইসঙে ঘরে থাকা আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায় এবং ঘরে রাখা চৌকিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি পুটু মিয়াকে দেখা মাত্রই প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায় অভিযুক্তরা।
পুটু মিয়া বলেন, প্রমাণ সাপেক্ষে জনস্বার্থে অভিযোগ করেছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে। তবে মামলা হবে হবে বলে দীর্ঘ ২ মাস পেরিয়ে গেছে, মামলা হয়নি। এ বিষয়ে ইউএনও এবং জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়ায় আমার ওপর এই হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটল। আইনকে সহযোগিতা করতে গিয়ে আজ আমার এই অবস্থা।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, এমন কোনো অভিযোগ পায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।