কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:০৬ পিএম
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৪২ পিএম
ঋণের টাকা পরিশোধ ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে এক যুবকের কিডনি অপসারণের অভিযোগে সংঘবদ্ধ কিডনি চক্রের চার সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী যুবক রাসেদ মিয়া (৩১) বাদী হয়ে জয়পুরহাট আমলি আদালত-৫-এ এই অভিযোগ দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালতের বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে কালাই থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে রাসেদ মিয়া একই গ্রামের মৃত কলিমউদ্দিনের ছেলে নূরনবী সরকারের (৪৬) কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন, যা সুদে-আসলে ৫০ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। ঋণের চাপে রাসেদ ঢাকায় কাজের উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে নূরনবী বাধা দেন এবং জানান ঢাকায় না গিয়ে তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করলে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি ভালো আয়ও করা যাবে। পরে নূরনবী নিজ খরচে ভুক্তভোগী রাসেদের পাসপোর্ট ও ভিসা করিয়ে দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কিডনি চক্রের সদস্যরা রাসেদকে উচ্চ বেতনের চাকরির কথা বলে ভারতে নিয়ে যায়। কলকাতার একটি হাসপাতালে ‘করোনা পরীক্ষা’ ও অন্যান্য মেডিকেল চেক-আপের নাম করে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অচেতন অবস্থায় তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয় এবং তা মামলার ৩ নম্বর আসামি এমদাদের (৫৫) শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। জ্ঞান ফেরার পর রাসেদ জানতে পারেন তার কিডনি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে এবং তাকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু দেশে ফেরানোর পর তাকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি; বরং তার পাসপোর্ট ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত সব কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়।
গত ৫ ডিসেম্বর একটি সালিশি বৈঠকে টাকা চাইলে আসামিরা রাসেদকে হুমকি দেয় এবং জোরপূর্বক তার দ্বিতীয় কিডনিটিও অপসারণের ভয় দেখায়। এরপর নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী রাসেদ আদালতে মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন মো. নূর নবী সরকার, মো. তাজুল ইসলাম, মো. এমদাদ ও মো. বিপ্লব হোসেন। আদালত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে কালাই থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত বিপ্লব ও তাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগে বহুতি এলাকায় কিডনি বিক্রির কিছু ঘটনা ঘটেছিল। তখন থেকে মামলা, গ্রেপ্তার ও কঠোর নজরদারির কারণে এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আজ হঠাৎ আমাদের নাম জড়িয়ে একটি মিথ্যা মামলা দাঁড় করানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার আরেক আসামি উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুনবী বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই মামলা সাজানো হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাফিউৎ জামান তালুকদার ডলার বলেন, ঋণ পরিশোধ, উচ্চ বেতনে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রাসেদ নামে এক যুবককে ভারতে নিয়ে তার শরীর থেকে একটি কিডনি অপসারণ করার ঘটনায় আদালতে অভিযোগ করার পর বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কালাই থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত আদালতের কোনো আদেশ এখনও থানায় আসেনি। আদালতের নির্দেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।