শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৫১ পিএম
শাহজাদপুর ফেচুয়ামারা মাঠে ফুলকপি ক্ষেত পরিচর্যা করছেন এক কৃষক। প্রবা ফটো
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শীতকালীন সবজি চাষে নিরব বিপ্লব ঘটেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, সময়োপযোগী কৃষিনীতি ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বদলে গেছে শাহজাদপুরে চিত্র। দেড় যুগ ধরে কৃষিক্ষেত্রে শাহজাদপুরের চাষীরা ব্যাপক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধি আর্জন করছে।
শাহজাদপুর উপজেলার উঁচু এলাকা হিসেবে পরিচিত গাড়াদহ ইউনিয়নের নবীপুর, চর নবীপুর, বারই টেপরী, পুরান টেপড়ি, চর নরিনা পোরজনা ইউনিয়নের পাড় জামিরতা ও ফেচুয়ামারা গ্রাম এখন সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। এই ৭টি গ্রামের চাষীরা সবজি চাষে উপজেলার মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, এসব এলাকার যেদিকেই দৃষ্টি দেয়া যায় সেদিকেই সবুজের সমারোহ। দেখা যায়- ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, পটল, মুলা, আলু, টমেটো, ডাটাশাক, লালশাক,পালংশাকসহ নানা রকমের শাকসবজি। কৃষকরা এসব সবজির মধ্যে অনেকগুলো আগাম চাষ করে অধিক লাভবান হয়েছেন। কৃষকরা এখন সহজেই উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারছেন। এ কারণে কৃষি কাজ এখন লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে। বছর সবজির দাম বেশি পাওয়ায় অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। আর বদলে যাচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষকদের অর্থনীতিও।
যদিও কৃষকদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যেই সার, বীজসহ আনুষঙ্গিক পণ্যসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণে তারা হোঁচট খান। তবে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও অধিক জমিতে সবজি চাষে আগ্রহী হবে বলেও জানান তারা।
উপজেলার পাড় জামিরতা গ্রামের মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি প্রায় তিন বিঘা জমিতে বেগুন এবং একবিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। প্রতিবছর বেগুন ও টমেটো চাষ করে তিনি খরচ বাদে দুই লক্ষাধিক টাকা আয় করেন।
ফেচুয়ামারা গ্রামের জাকির হোসেন জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজার মূল্যও ভালো পাচ্ছেন।
উপজেলার নবীপুর গ্রামের সবজি চাষী মনছুর আলী জানান, তিনি ইতোমধ্যেই ফুলকপি ও বাঁধাকপি বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। ভাল ফলন ও দাম পাওয়ায় বেশ লাভবান তিনি। আশে পাশের হাট-বাজার থেকে পাইকাররা জমিতে এসে সবজি নিয়ে যায়। প্রতি বছর সবজি চাষ করে খরচ বাদে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করেন।
উপজেলার বারইটেপরী গ্রামের কৃষক সুজাব আলী জানান, তিনি তিন বিঘা জমিতে বেগুন এবং এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করলে খরচ হয় ১৫-২০ হাজার টাকা। আর সঠিকভাবে উৎপাদিত হলে প্রায় ২ থেকে আড়াইশ’ মণ বেগুন হয়। এতে প্রতি বিঘায় বেগুন চাষ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ আসে।
শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতি বছর শীতকালীন সবজি চাষে শাহজাদপুরের কৃষকরা ব্যাপক অবদান রেখে যাচ্ছে। উপজেলার সর্বত্রই কমবেশি কৃষকেরা সবজি চাষ করলেও গাড়াদহ ইউনিয়ন ও পোরজনা ইউনিয়ন সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের সবজি চাষে উৎসাহ যোগানোপর পাশাপাশি বিভিন্ন পরামর্শ ও বীজ প্রদান করে থাকে। সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়তে থাকলে আগামীতে উপজেলার কৃষিখাত আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।