খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:৩৫ পিএম
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:০০ পিএম
খুলনা বেতার কেন্দ্র। এক বছর আগে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাপে যে ভবনটি পুড়ে নিঃস্ব হয়েছিল, এখনও সেখানকার কার্যক্রম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। দুটি স্টুডিও দিয়ে সীমিত সম্প্রচার চললেও অধিকাংশ অনুষ্ঠান বন্ধ।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সেই স্থবিরতার প্রতিবাদেই
সকালে খুলনা বেতার কেন্দ্রের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ান স্থানীয় শিল্পীরা। দাবি
বাজেট ফেরত না পাঠিয়ে অবিলম্বে কেন্দ্রটি শতভাগ চালু করতে হবে।
মানববন্ধনে শিল্পীরা জানালেন, দীর্ঘদিনের
বঞ্চনার কথা। বেতার শিল্পী ‘সারথি’ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অভিযোগ উঠে
একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন, অন্যদিকে স্থানীয়
শিল্পীরা মাসের পর মাস কোনো প্রোগ্রাম পাচ্ছেন না।
একজন নাট্যশিল্পী বলেন, আগে মাসে আটটি নাটক হতো। এখন
হচ্ছে মাত্র একটি। সংগীত, আবৃত্তি, সবখানেই কাটছাঁট চলছে। বাজেটের ঢাকায় ফেরত চলে
যাচ্ছে এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না।
কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিল্পীরা।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ স্টুডিও বাড়াতে বা সম্প্রচার সক্ষমতা
বাড়াতে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। অথচ দুই-তিনটি স্টুডিও দিয়ে ডাবল-শিফটে অনুষ্ঠান
চালানো সম্ভব ছিল। একজন শিল্পী বলেন, ‘অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত, ঠিক আছে। কিন্তু
সীমিত যা আছে, সেটুকু নিয়েও কাজ করা যেত। এখানে আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।
নিয়মিত শিল্পী, মোস্তাক আহমেদ আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে
বলেন, ৫ তারিখের ঘটনার পরে আমরা একেবারে বঞ্চিত। কোনো প্রোগ্রাম নেই। অথচ সরকারের
টাকা ঢাকার দিকে চলে যাচ্ছে। খুলনা বেতারকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া হচ্ছে।
মানববন্ধনে সাধারণ মানুষ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর
প্রতিনিধিরাও যোগ দেন। তাদের অভিযোগ খুলনা অঞ্চলের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে বেতার
ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দুর্ঘটনার পরে এক বছরের বেশি সময়েও
পুনর্গঠন বা বাজেট ব্যবহারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
মানববন্ধনের আয়োজক ‘সারথি’র তুহিন অভিযোগ করেন,
সরকারি কর্মকর্তা বেতন পাবেন, কিন্তু শিল্পীদের প্রোগ্রাম হবে নাÑ এটা কেমন কথা?
বৈষম্য হচ্ছে। যে বাজেট এসেছে, সেটাও খরচ না করায় ফেরত যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যদি কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না
নেয়, তাহলে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে ঘেরাও, স্মারকলিপি, রাস্তায় আন্দোলনসহ
বিভিন্ন ধাপের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের আগুনে খুলনা বেতারের অধিকাংশ
যন্ত্রপাতি, স্টুডিও সেটআপ, আর্কাইভসহ সবকিছু পুড়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়েও
পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন হয়নি। শিল্পীরা মনে করছেন, পরিকল্পনার অভাব ও ব্যবস্থাপনার
গাফিলতিতেই এই স্থবিরতা বিরাজ করছে।
মানববন্ধনে উপস্থিতরা দাবি তুলে ধরে বলেন, খুলনা
বেতারকে বাঁচান, শিল্পীদের কাজে ফিরতে দিন।