এসকে সুজয় বিশ্বাস, নড়াইল
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৩৮ এএম
নড়াইল সদরের আউড়িয়া এলাকায় নির্মাণাধীন বাফার গুদাম। প্রবা ফটো
নড়াইলে কৃষকদের সার সরবরাহে গতি আনতে ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক বাফার গুদাম। প্রায় ৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সদর উপজেলার আউড়িয়া এলাকায় ১০ হাজার মেট্রিক টন সার ধারণক্ষমতার এই গুদামটি নির্মাণ করছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।
গুদামটি চালু হলে কৃষকরা সময়মতো সার পাবেন, পরিবহন ব্যয় কমবে এবং সার সংরক্ষণে আর যশোর বা অন্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হবে না।
বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া এলাকায় ৩ একর ৭৫ শতাংশ জমির ওপর এই গুদাম নির্মাণ করছে ফরিদপুরের সালাম কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি টাকা, যা বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং চলতি বছরের জুন মাসে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব এমডি ওবায়দুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে একটি অফিস ভবন, স্টাফ কোয়ার্টার, আনসার অফিস, সাব-স্টেশন, পুকুর এবং ১০ হাজার মেট্রিক টন সার ধারণক্ষমতার ৩০০ ফুট লম্বা, ২০০ ফুট চওড়া এবং ২৫-৩০ ফুট উঁচু প্রধান গুদাম ভবন। গুদামের কাঠামো হবে ইটের দেয়াল ও স্টিল ফ্রেমের ওপর টিনের ছাউনি।
বিসিআইসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাফর মৃধা বলেন, এখানে মূলত ইউরিয়া সার সংরক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে ডিএপি ও টিএসপি সারও রাখা যাবে। এখন পর্যন্ত কাজের এক-চতুর্থাংশ শেষ হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নড়াইলে বাফার গুদাম না থাকায় বিসিআইসিকে বিএডিসির গুদাম ভাড়া নিয়ে সার সংরক্ষণ করতে হয়। নতুন গুদাম হলে এসব ঝামেলা থাকবে না।
স্থানীয় সার ডিলার অলোক কুন্ডু বলেন, যশোর থেকে সার আনতে সময় ও ব্যয়Ñ দুটোই বেশি হয়। নড়াইলেই বাফার গুদাম হলে কৃষকরা সময়মতো সার পাবেন এবং ডিলারদের ব্যয়ও কমবে।
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, বর্তমানে বিএডিসির গুদামে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সার সংরক্ষণের সুযোগ আছে। নতুন বাফার গুদাম হলে নড়াইলের সার সংরক্ষণের সক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। কৃষকরা দ্রুত সার পাবেন, সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে।