ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:১১ পিএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:২৯ পিএম
ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ওয়াকিল আহমেদ শিহাব ও টমটম চালক মো. সবুজ হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। এতে ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ ৩৭৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর
সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলায়
২৫০ জন ও সবুজ হত্যা মামলায় ১২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন মামলার
তদন্তকারী কর্মকর্তারা। আগামী ১৮ জানুয়ারি শিহাব হত্যা মামলা ও ১১ ডিসেম্বর সবুজ হত্যা
মামলার চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য ওই দিন ধার্য করেছেন আদালত।
এ ব্যাপারে জানতে কথা হয় সবুজ হত্যা মামলার তদন্তকারী
কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. ফারুক মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, সবুজ
হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় ৬৫ জন ও তদন্তে নাম পাওয়া ৫৯ জনসহ মোট ১২৪ জনকে অভিযুক্ত
করে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। এ মামলায় এজাহারনামীয়
৫ জন ও সন্দেহভাজন ৩৯ জনসহ মোট ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জনকে রিমান্ডে
জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাদের মধ্যে কেউ আদালতে দায়
স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়নি।
অন্যদিকে, ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলার তদন্তকারী
কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোতাহের হোসেন বলেন, শিহাব হত্যা মামলায় এজাহারনামীয়
১৪৮ জন ও তদন্তে প্রাপ্ত ৯২ জনসহ মোট ২৫০ জনের নাম উল্লেখ করে গত ৮ ডিসেম্বর আদালতে
চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় এজাহারনামীয় ১৩ জন ও সন্দেহভাজন ৪৯ জনসহ মোট ৬১ জনকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় মেজবাহ উদ্দিন মেজু, এনামুল হকসহ ছয়জনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ
করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নবী মেম্বার ও ওসমান গণি লিটন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে
১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনায় সম্পৃক্ততা না থাকায় এ মামলায় তিনজনকে চার্জশিট
থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের নাম-ঠিকানা মিল পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গত বছরের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার
আন্দোলনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্বিচারে করা গুলিতে প্রাণ
হারান ওয়াকিল আহমেদ শিহাব ও টমটম চালক মো. সবুজ। এ ঘটনায় ওই বছরের ২০ আগস্ট নিহত ফেনী
সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুর এলাকার ওয়াকিল আহমেদ শিহাবের মা মাহফুজা
আক্তার বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম
সদস্য ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ফেনী-১
আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম,
ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ
১৫১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরও ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
একই বছরের ১৩ আগস্ট আন্দোলনে নিহত সবুজের ভাই মো. ইউছুপ
বাদী হয়ে ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী সদর উপজেলার সাবেক
চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, সাবেক পৌর মেয়র স্বপন মিয়াজীসহ ৬৫ জনের নাম উল্লেখ ও
৩০০-৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত
২৪টি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ৭টি হত্যা মামলা ও ১৭টি হত্যাচেষ্টা এবং সহিংসতার
অভিযোগ।র্জশিট