মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৩৩ পিএম
প্রবা ফটো
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো। উপজেলার প্রতিটা কৃষক রোপা ও আমন ধানের ফলনে খুশি। ইতোমধ্যেই আগাম জাতের ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন তারা। শুরু হয়েছে মাঠজুড়ে ধানকাটা ও মাড়াইয়ের কর্মযজ্ঞ।
উপজেলা কৃষি অফিস
সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১০ হাজার
৩৬ হেক্টর জমিতে।
এবারে লক্ষ্যমাত্রার
চেয়েও বেশি জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪২৬ হেক্টর জমিতে স্থানীয়
আমন ও ১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে আমন উফশী জাতের ধানের চাষ হয়েছে। এতে ফসলের লক্ষ্যমাত্রা
ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ২৯১ মেট্রিক টন।
উপজেলার বিভিন্ন
এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রতিটি এলাকার মাঠজুড়ে আমন ধানে মাঠ যেন সোনালি
রঙে আভা ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষক-কৃষানিদের মুখে এবারে হাসির ঝলক। কৃষকদেরকে পাকা ধান কেটে
বাড়িতে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এখন কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ধান কাটাসহ নানা কাজে।
উপজেলার কাকড়াবুনিয়া
ইউনিয়নের ফিরোজ আকন জানান, এবারের মতো আমন ধানের ফলন বিগত ৪-৫ বছর থেকে ভালো। মাঠে
ধানের ফলন দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। এবারে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন হয়েছে দ্বিগুণ। উন্নত
জাতের বীজ রোপণ ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে আশানুরূপ ফলন পেয়েছি।
উপজেলার মজিদবাড়ীয়া
ইউনিয়নের তারাবুনিয়া গ্রামের নিখিল বিশ্বাস বলেন, ধানক্ষেতের দিকে তাকালে মন জুড়িয়ে
যায়। কৃষকরা অনেক খুশি। স্থানীয় অনেক কৃষক জানান, আশানুরূপ ফলন হওয়ায় এবারে হেক্টরপ্রতি
খরচ বাদে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভবান হওয়া যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমন মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আমন ধানের পোকামাকড় সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করা হয়েছে। ফলে এবার আমন ধানের রোগবালাই কম। তাই ফলন হয়েছে অধিক। তিনি আরও বলেন, যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, অধিক ফলন উৎপাদন এবং রোগবালাই দমনে জৈবিক পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ফলে এবারের বাম্পার ফলনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছি।