অরুপ রতন, বগুড়া
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:১৩ পিএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:১৩ পিএম
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের টয়লেট ও গোসলখানার নোংরা অবস্থা এখন ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজে নিয়মিত ফাঁকি দেন এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তারা সঠিকভাবে মনিটরিং করেন না। ফলে এমন পরিবেশের উদ্ভব হয়েছে। আর এতে রোগীরা দুর্ভোগের শিকার ও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জনবল সংকটকে দায়ী করছে।
হাসপাতালের সাততলা ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা
গেছে, টয়লেটে জমে থাকা আবর্জনা, আটকে থাকা ড্রেন, ভাঙা কল, ভেজা ও পিচ্ছিল মেঝে এবং
অসহনীয় দুর্গন্ধ। অনেক টয়লেটে আলোর ব্যবস্থা নেই। রোগীরা মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে ভেতরে
ঢুকতে বাধ্য হন। সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি এবং শিশু ওয়ার্ডে একই সমস্যা আরও খারাপ।
টয়লেট পরিষ্কার
করার জন্য হাসপাতালে ১২৯টি ক্লিনার পদের মধ্যে কর্মরত ৯০ জন; আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে
কাজ করেন আরও ৫ জন। কিন্তু এই জনবল দিয়ে বিশাল ভবন, বিভিন্ন ওয়ার্ড, ল্যাব, ইমার্জেন্সি
ও আউটডোর সামলানো সম্ভব হয় না। তাছাড়া যারা আছেন তাদের অনেকেই দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন বলে
রোগীদের অভিযোগ।
একজন রোগী বলেন,
টয়লেট পরিষ্কার করতে বললে অনেকে বলে পরে আসবে। পরে আর আসে না। দিনের পর দিন বাথরুমে
পানি থাকে না। গন্ধে দাঁড়ানো যায় না।
অনেক নারীর অভিযোগ,
গাইনি ওয়ার্ডের কিছু বাথরুমে পানি না থাকায় প্রসূতি রোগীরা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
প্রায় ৩১ বছর আগে
১৯৯২ সালে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার ম্যাটস ভবনে ‘শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ’
প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন পাশের ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে টিচিং হাসপাতাল হিসেবে
ব্যবহার করা হতো। ২০০৬ সালে ছিলিমপুরে স্বতন্ত্র মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল
ভবন নির্মিত হয়। উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলাÑ জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধাসহ
বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজারো রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ২০০৯ সালে আইসিইউ,
নিউরোলজি, গ্যাস্ট্রোইনটেরোলজি, কিডনি-হেপাটোলজিসহ ১৩টি নতুন বিভাগ চালুর ফলে রোগীর
চাপ আরও বেড়েছে।
বর্তমানে এই হাসপাতালে
প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,৫০০ রোগী ভর্তি থাকেন। রোগীর চাহিদা বাড়তে থাকায় ২০১৮ সালে ৫০
কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে সাড়ে চারতলা ভবনকে সাততলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়। ২০১৯
সালে ১ হাজার ২০০ রোগী ভর্তির প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
কিন্তু এর মধ্যেও
টয়লেট-গোসলখানার মতো সবচেয়ে মৌলিক অংশটি থেকে গেছে অবহেলায়। রোগীরা বলছেন, হাসপাতালের
বিভাগ ও শয্যা বাড়ানো হয়েছে। ভবন বড় করা হয়েছে। কিন্তু বাথরুমের নোংরা অবস্থা আগের
মতোই রয়ে গেছে।
শহরের খান্দার এলাকার
রোগী বাবু বলেন, মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে প্রস্রাবের নমুনা দিতে ভেতরে ঢুকেছিলাম। বাথরুমের
অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গেছি। এত নোংরা যে দাঁড়ানোই যায় না।
বগুড়া সদরের পীরগাছা
লাহিড়ীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর বলেন, বাথরুমে ঢুকলেই নাকে-মুখে হাত চেপে ধরতে হয়।
পানি থাকে না, দুর্গন্ধে মাথা ঘুরে যায়।
হাসপাতাল চিকিৎসার
জায়গা। কিন্তু বাথরুমে ঢুকলে মনে হয় নোংরার ভাগাড়ে ঢুকেছি। এতে রোগী আরও অসুস্থ হয়ে
পড়ছেন।
চিকিৎসাধীন এক রোগীর
স্বজন বলেন, ডাক্তাররা ভালো, চিকিৎসা ভালো। কিন্তু এই বাথরুমের গন্ধে তো রোগই বাড়ে।
মানুষ হাসপাতাল আসে সুস্থ হতে। অসুস্থ হতে নয়।
হাসপাতালের ওয়ার্ড
মাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি ওয়ার্ডে চারটি টয়লেট ও দুটি গোসলখানা রয়েছে। লোকবল
কম থাকায় তিন শিফটে ভাগ হয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করেন। তবে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ,
শিফট থাকলেও সঠিকভাবে কাজ হয় না।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর এ মুর্শেদ বলেন, হাসপাতালের যেসব জায়গায় সমস্যা আছে। তা গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে। কিছু কাজ শুরু হয়েছে। বাকিটাও শিগগির শুরু হবে। আর ক্লিনারদের মধ্যে কেউ কাজ এড়িয়ে গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।