সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:২০ পিএম
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:০০ পিএম
ফখরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের দেশ ইতালির ওয়ার্ক পারমিট (নোলস্তা) ইস্যু হয়েছে, ভিসা আসার প্রত্যাশায় রঙিন স্বপ্নে বিভোর সোনাগাজীর ফখরুল ইসলাম। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস প্রাণ বাঁচাতে যে শহরে অবস্থান নেয় সেই শহরে তার প্রাণপ্রদীপ নিভে যায়।
এর মধ্যে এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতায় কয়েকবার হামলার মুখে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে ঢাকা শহরে বসবাস শুরু করে। জীবন চালানোর তাগিদে স্বল্প বেতনে চাকরি নেন বোতলজাত গ্যাস বিক্রির দোকানে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানী ঢাকার ডেমরা থানার মুস্তাক হাজি নামের এলাকার খালের পাশে গাছে ঝুলছিল ফখরুলের মরদেহ। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। সে সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের প্রয়াত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস মিয়ার তৃতীয় সন্তান। তার ৩ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে, স্ত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম ভুট্টু চরদরবেশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
পরিবার
জানায়, ইতালিতে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল ফখরুল। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের
পর নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে না পেরে ফেনীতে মুদিমালের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।
গত মাসে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা হলে প্রাণ বাঁচাতে গ্রামের বাড়িতে
চলে আসেন। খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা বাড়ির সামনে ককটেল ফাটিয়ে খুঁজতে থাকলে পালিয়ে নোয়াখালী
জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী গ্রামের শশুর বাড়িতে চলে যায়। সেখানের সন্ত্রাসীরা
তাকে তাড়া করলে পরিবারের সহায়তায় ঢাকার ডেমরাতে চলে যান। সেখানে একটি দোকানে চাকরির
পাশাপাশি বোতলজাত গ্যাস ব্যবসা করতেন।
নিহতের
স্ত্রী রুবিনা আক্তার বলেন, গত শনিবার রাতে আমার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। পরে সকালে তার
মুঠোফোন বন্ধ পেয়ে অনেক স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান পাইনি। গতকাল রাতে ডেমরা থানা পুলিশের
মাধ্যমে মৃত্যুর সংবাদ পাই।
তিনি আরো বলেন, এটি আত্মহত্যা হতে পারে না। আমার স্বামীর মুখমণ্ডলে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আত্মহত্যা করলে আঘাতের চিহ্ন থাকবে কেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এটি হত্যাকাণ্ড। এত হামলার চেষ্টার মুখেও আমার স্বামী নিজের ওপর আস্থা রেখেছেন, সর্বশেষ কথা বলার সময়েও তাকে প্রাণবন্তু দেখা গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হলেও ফখরুল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এলাকায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। বৈবাহিক সুত্রে বেশিরভাগ সময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপর্বতী ইউনিয়নের শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। তার বিরুদ্ধে এলাকার কারো অভিযোগ নেই। তার এমন মৃত্যুতে গ্রামবাসী মর্মাহত।
ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া ছাড়া বলা যাবে না। ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।