টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৩৮ পিএম
‘তফসিল ঘোষণার পর আর অস্ত্রের ঝনঝনানি থাকবে না। অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে আমরা ইতিমধ্যে পুরস্কার ঘোষণা করেছি। যে কারণে এবার নির্বাচনে অস্ত্রের প্রভাব খুব একটা পড়বে না। অতীতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার যে ক্ষোভ ছিল, এবার মানুষ সেই ক্ষত মেটাতে ভোটমুখী হচ্ছে। জনগণ নিজেরাই তাদের ভোটের উৎসব নষ্ট করবে না।’
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের দক্ষিণ সীমান্ত টেকনাফ মডেল থানা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) এ এন এম সাজেদুর রহমান এ সব কথা বলেন।
কক্সবাজারে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে এসপি বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা পুলিশ প্রধান স্টেকহোল্ডার। তাই নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও স্বচ্ছ রাখতে সরকার আমাকে নতুন দায়িত্ব দিয়েছে।
কক্সবাজারের চারটি আসনেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
এসপি সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা কেবল একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে দিতে চাই, যাতে মানুষ ভয়হীনভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। যখন পরিবেশ তৈরি হবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সব ধরনের অস্ত্রের ঝনঝনানি থেমে যাবে। এবারের নির্বাচন অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি গ্রহণযোগ্য হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
অপহরণ ও মানবপাচারে পুলিশের একটি অংশ জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে এসপি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ৫ আগস্টের পর পুলিশের চেতনা এমন আচরণ কখনোই সমর্থন করে না। কিছুসংখ্যক অসাধু সদস্যের কারণে পুরো বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেওয়া হবে না। বাহারছড়ায় মানবপাচার ও অপহরণ রোধে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।’ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আরও জোরালো অভিযান চালানো হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) মো. রকিবুল হাসান ও টেকনাফ মডেল থানার নবাগত ওসি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।