নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৩৪ পিএম
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:০৭ পিএম
নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চল নিলক্ষায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মামুন মিয়া (২৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষার দড়িগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মামুন মিয়া একই এলাকার আব্দুল আউয়ালের ছেলে ও কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। তিনি গত ২১ নভেম্বর ছুটিতে দেশে আসেন।
নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই নিলক্ষার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রয়াত শহীদ মেম্বার গ্রুপ ও ফেলু মিয়া গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সোমবার সকালে স্থানীয় অরিপুর বাজারে ফেলু মিয়ার নাতিন জামাতা কুয়েত ফেরত মামুন মিয়ার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায় প্রতিপক্ষের লোকজনেরা। এ সময় সংঘর্ষে জড়ালে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও হামলার ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মামুনসহ কয়েকজন আহত হয়। পরে আহতদের মধ্যে তিনজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত মামুনের পিতা আউয়াল মিয়া (৫৫) এবং পরশ মিয়া নামে আরও দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মামুনের বোন সোমা আক্তার বলেন, ১৫ দিন আগে পাঁচ মাসের ছুটি নিয়ে কুয়েত থেকে দেশে ফিরেন আমার ভাই। আমাদের নিলক্ষা দড়িগাও ও দড়িগাও ফেলুর বাড়ির মধ্যে পূর্বের আধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। আর সে বিরোধ মিমাংসার জন্য তার শ্বশুর বাড়ি দড়িগাও ছক্কার বাড়িতে যান। সেখানে আমার ভাইয়ের আপন শ্যালক এনামুল, সোহাগ ও শ্বশুর ইসব এবং চাচা শ্বশুর জবা মিয়া আমার ভাই ও বাবাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে। এতে আমার ভাই নিহত হয় এবং আমার বাবা ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানা কবির বলেন, নিলক্ষার সংঘর্ষের ঘটনায় বাবা ও ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে ছেলেকে মৃত অবস্থায় পাই। বাবার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত মামুনের পেটে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি, আঘাতের ধরণ দেখে গুলি মনে হচ্ছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন মারা গেছে। এদের মধ্যে আত্বীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।