আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:৫২ পিএম
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:৫৬ পিএম
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবল সংকটে ধুঁকছে। একদিকে চিকিৎসক সংকট, অন্যদিকে ল্যাবে টেকনিশিয়ানের স্বল্পতাসহ নানা সমস্যা।
সোমবার (০৮ ডিসেম্বর) সকালে আনোয়ারা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, যাদের পরীক্ষার ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে
তারা বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটে যাচ্ছেন। কেউ চলে যাচ্ছেন জেলা শহর চট্টগ্রামে।
হাসপাতালে আসা রোগীদের রোগ নির্ণয়ের
জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে, যেতে হচ্ছে
জেলা সদরসহ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীর অভিভাবকরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে
এখানে চিকিৎসকের ৩২টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৭ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য আছে। নার্স ও মিডওয়াইফারের
৪০টি পদের মধ্যে ৯টি পদ শূন্য। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১০৭ কর্মচারীর মধ্যে ৩৭ জনের
পদ শূন্য। উপজেলার দু’টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দু’জন চিকিৎসকের (সহকারী সার্জন)
মধ্যে একজন প্রেষণে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দুই ইউনিয়ন
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সহকারী, ফার্মাসিস্টসহ ৪টি করে ৮টি পদের মধ্যে ৭টিই শূন্য।
একইভাবে ৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসা সহকারীর ৯টি পদই
শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে, এক্স-রে টেকনিশিয়ানের পদ অনেক দিন ধরেই শূন্য। হাসপাতালে এক্স-রে
হয় না। ল্যাব টেকনোলজিস্টের ৩টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য। ফলে হাসপাতালে প্যাথলজিক্যাল
পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ অপ্রতুল।
উপজেলার ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা
ও হাটহাজারী কৃষি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সিরাজম মুনিরা চৌধুরী (২১) শারীরিক অসুস্থতাজনিত
সমস্যা নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। চিকিৎসক এক্স-রে করাতে
বলেছেন। হাসপাতালে এক্স-রে করার ব্যবস্থা না থাকায় তিনিও বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে
চলে যান।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা
গেছে, উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য এই স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সটি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের ২টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি
অচল। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি নতুন হলেও অনেক দিন থেকেই অব্যবহৃত অবস্থায়
আছে। এক্স-রে মেশিন পরিচালনার জন্য টেকনিশিয়ানের পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে। রয়েছে
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর স্বল্পতাও। একই অবস্থা ল্যাবেরও। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের
২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু পর্যাপ্তসংখ্যক টেকনোলজিস্ট না
থাকায় প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ খুব কম রোগীই পাচ্ছেন। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে
রোগীর চাপে অনেককেই চিকিৎসা নিতে হলে মেঝেতে থাকতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা দিতে চিকিৎসকের পাশাপাশি
অন্যান্য জনবলও দরকার। কিন্তু কর্মচারীদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ পদ শূন্য। অনুমোদিত ৭
জন টেকনোলজিস্টের মধ্যে ৫ জনই নেই। এজন্য কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে চলছে এ হাসপাতালটি।