প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১০ পিএম
তিন মাস আট দিন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকার পর অবশেষে সরকার পুনরায় পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।
দীর্ঘ সময় আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভরতা বাড়ে এবং সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মূল্যবৃদ্ধি করেন কিছু আড়তদার ও ব্যবসায়ী। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর সীমিত আকারে আমদানি শুরু হয়েছে এবং এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে পড়তে শুরু করেছে। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পেঁয়াজবোঝাই প্রথম ট্রাক হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করার মাধ্যমে আমদানি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, রকি ট্রেডার্স প্রথম চালান হিসেবে ভারত থেকে ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি রকি জানান, ভারত থেকে প্রতিটন পেঁয়াজ ২৪৫ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হচ্ছে। এসব পেঁয়াজ দেশের বাজারে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে। আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে তাজা আমদানিকৃত পেঁয়াজ দ্রুত প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে দামের ওপর আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পেঁয়াজ আমদানি অনুমোদনের পর সবচেয়ে দ্রুত প্রভাব পড়তে দেখা গেছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে। দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত খাতুনগঞ্জে গত দুই দিনের ব্যবধানে ১৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ রবিবার নেমে এসেছে ৮৫-৯০ টাকায়। আড়তদাররা জানান, বাজারে বড় পরিমাণে আমদানি করা পেঁয়াজ না এলেও শুধু আমদানির ঘোষণা দাম কমিয়ে দিয়েছে। ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া মুড়িকাটা পেঁয়াজ বর্তমানে ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি হঠাৎ পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই, তবুও দাম বেড়েছে। এর পেছনে অবশ্যই অসাধু চক্র কাজ করেছে। রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হঠাৎ দাম বৃদ্ধি কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়, বরং এটি বাজার কারসাজিরই ফল। পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকস্মিক বৃদ্ধি জনগণের ভোগান্তি বাড়ায় এবং বাজার অস্থির করে তোলে। তাই এ ধরনের কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
খাতুনগঞ্জ বাজারের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছেÑ এই ঘোষণার পর থেকেই বাজারে প্রভাব পড়তে থাকে। শুক্রবার যেখানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২০-১২৫ টাকায়, শনিবার একই পণ্য বিক্রি হয়েছে ১০-১৫ টাকা কমে। আর রবিবার আরও বেশি কমে ৮৫-৯০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ জানান, ৩০ আমদানিকারকের নামে ৩০টি আইপি ইস্যু করা হয়েছে। প্রত্যেকে ৩০ টন করে মোট ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারত থেকে দুটি ট্রাকে ৩০ টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে বলে তিনি জানান।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা জানান, গত তিন মাসের বেশি সময় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ কমে যায় এবং দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। এতে কয়েক দিন ধরে হিলি এবং দেশের অন্যান্য বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা এম আর জামান বাঁধন বলেন, ভারতের পেঁয়াজবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করার পর দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত দেশের বাজারে পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অনুমোদন দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইউসুফ আলী বলেন, রবিবার থেকে আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি চালান নিয়মানুসারে পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে সীমিত আকারে হলেও আমদানি শুরু হওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে এবং আগামী কয়েক দিনে দাম আরও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।