খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৫০ পিএম
সুন্দরবনঘেঁষা উপকূলীয় কয়রায় ঘূর্ণিঝড়, জোয়ার-ভাটা আর লোনাপানির চাপে অবকাঠামো টিকিয়ে রাখা আজ বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জের আরেক চিত্র দেখা যায় মহারাজপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে, যেখানে শাকবাড়ীয়া খালের ধারঘেঁষে নির্মিত দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ পিচসড়কটি স্বপ্ন দেখালেও নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই সেই স্বপ্ন চূর্ণ হয়েছে বেহাল দশায়।
স্থানীয়রা বলছেন, সড়কে থাকা ১৫টি বক্স কালভার্টের দুর্বল নকশা ও নির্মাণ ত্রুটি, পাশাপাশি প্রভাবশালী লোনাপানির ঘের ব্যবসায়ীদের অবৈধ সংযোগই সড়ক ধসের প্রধান কারণ।
সরজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও অ্যাসফাল্ট ভেঙে খালে ঝুলে আছে, কোথাও ফেটে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক খাদ। মোটরযান তো দূরের কথা রাস্তায় হাঁটতেও এখন ঝুঁকি নিতে হয় এলাকার মানুষকে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নির্মাণকালে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল, আর সে কারণেই কয়েক বছরের ব্যবধানে সড়কটি পুরোপুরি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. দিদারুল আলম বলেন, রাস্তায় এখন কোনো ধরনের যানবাহন চলতে পারে না। সড়কের পাশেই একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল। শিশুরা ভ্যান বা সাইকেল নিয়ে যেতে পারে না, অনেক শিশু, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ শিক্ষার্থীকে হেঁটেই স্কুলে যেতে হয়। আমরা দ্রুত সড়কটি নতুন করে নির্মাণের দাবি জানাই।
বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো কয়রা উপজেলার সহসভাপতি জিএম মোনায়েম অভিযোগ করে বলেন, সরকারের দেওয়া বাজেট কাজে লাগানো হয়নি। তাই নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত নতুন বাজেট অনুমোদন দিয়ে সড়ক পুনর্নির্মাণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন বলেন, রাস্তাটি অনেক আগে তৈরি করা হয়েছিল। তবে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় কপোতাক্ষ নদের বাঁধ ভেঙে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও এ সড়কের ডিপিপি তৈরি হয়নি, তবে দ্রুত সংস্কারের চেষ্টা চলছে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী জানান, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে। আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব সড়ক সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপকূলীয় জনপদের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রধান ভরসা ছিল এই সড়ক। দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি আজ এলাকাবাসীর একটাই, স্বপ্নের রাস্তা যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত না হয়।