গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৮ পিএম
গোপালগঞ্জে চাকরি প্রদানের শর্তে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে বিপাকে যুবক আরিফুল শেখ। ভুক্তভোগীর অভিযোগ প্রদানকৃত ঘুষের ২ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) ভয় দেখান প্রধান শিক্ষক। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তিনি।
অভিযুক্ত শংকর সাহা জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ভুক্তভোগী আরিফুল শেখ উপজেলার দক্ষিণ কুশলী গ্রামের ইয়ার আলী শেখের ছেলে।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ওই বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সহ কয়েকটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তখন চাকরির জন্য আরিফুল শেখ স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বিদের নিয়ে প্রধান শিক্ষক শংকর সাহার সাথে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে একদিন পর নগদ ২ লক্ষ টাকা দুইজন সাক্ষীর মাধ্যমে গ্রহণ করেন প্রধান শিক্ষক। পরে নিয়োগটি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আরিফুল শেখ টাকা ফেরত চাইলে নিয়োগ দেওয়া হবে আশ্বস্ত করেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু আর না হওয়ায় কয়েকমাস পর প্রধান শিক্ষক শংকর সাহাকে ঘুষের টাকা ফেরতের জন্য বললে তৎকালীন সভাপতি শেখ নাদির হোসেন লিপুর ভয় দেখাতো। আর এখন বর্তমান সভাপতি টুঙ্গিপাড়া সহকারী কমিশনারের (ভূমি) ভয় দেখান।
টাকা প্রদানের সময় উপস্থিত থাকা স্থানীয় ফেরদৌস আলম বলেন, আরিফুলের চাকরির জন্য প্রধান শিক্ষক শংকর সাহার সাথে ৫ লক্ষ টাকার কথা হয়। তখন আরিফুলের পরিবার আমি ও আরেক মুরব্বি হাফিজ শিকদারের উপস্থিতিতে শংকর সাহাকে নগদ দুই লক্ষ টাকা দেয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও প্রধান শিক্ষক তাতে সাড়া দেননি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শংকর সাহা চাকরির জন্য টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আরিফুল আমার বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলো, সেইভাবে ওকে চিনি। চাকরির কথা বলে ওর কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়া হয়নি। আর কাউকে কোন ভয়ও দেখাইনি।
টুঙ্গিপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বর্তমান ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আল-আমিন হালদার বলেন, লিখিত অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। যদি প্রধান শিক্ষক কাউকে প্রশাসনিক ভয় দেখিয়ে থাকে তাহলে সেটা অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।