কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৪১ পিএম
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৬ পিএম
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরে উচ্ছেদ করা জমিতে সীমানা পিলার স্থাপনের উদ্যোগে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে কয়েক হাজার মানুষের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন ও গাছ ফেলে পথরোধের মুখে বিআইডব্লিউটিএ তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
পিলার স্থাপনের কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিআইডব্লিউটিএ কক্সবাজার নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার আব্দুল ওয়াকিল জানান, চলতি বছরের ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সাড়ে চার শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীতীরের ৬৩ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়। এরপর ২০১৯ সালের যৌথ জরিপ মানচিত্র অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণ করে পিলার, সাইনবোর্ড ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৩ থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধে তা বাধাগ্রস্ত হয়। গতকাল সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতেও কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ ও আগুন ধরানোর পাশাপাশি বিকট শব্দে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পিলার স্থাপনের কাজ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
রবিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাটস্থ বাঁকখালী নদীর তীরে কয়েক হাজার মানুষ। তারা টায়ারে আগুনে, সড়কে গাছ দিয়ে অবরোধ করেছে। পরিবেশ উপদেষ্টা সহ নানা শ্লোগান দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সহ বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ গেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন। ওই সময় কিছু বিকট শব্দও শোনা গেছে।
বিক্ষোভ অংশ নেওয়া আবদুল গফুর নামের এক ব্যক্তি জানান, এখানে বৈধ জমিতে তার ঘর ছিল। তা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এব্যাপারে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত এখানে কোন ধরনের স্থাপনা না করতে আদেশও দিয়েছে। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ তা মানছে না। তারা কাঁটাতার-পিলার দিয়ে জমি পুরো দখলের প্রক্রিয়া করছে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শেখ নেওয়াজ বলেন, এখানে সাড়ে চার শতাধিক মানুষের জমি রয়েছে। সবারই কাগজপত্র আছে, কিন্তু প্রশাসন তা গ্রহণ করছে না।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বিআইডব্লিউটিএ আদালতের নির্দেশ মানছে না। কাগজপত্র যাচাই না করেই তারা সীমানা নির্ধারণের কাজ করছে, যা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আশরাফুর রহমান জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।