শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৮ পিএম
ডন বাহিনীর পরিচয়ে সুন্দরবনের ৭ জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণের দাবি করছে জলদস্যুরা। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ মালঞ্চ নদীর হাঁসখালী, চেলাকাটা, হেতালবুনি খাল থেকে জেলেদের অপহরণ করা হয় বলে জানান বেচেঁ ফিরে আসা জেলেরা।
অপহৃত জেলেরা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের আব্দুল আজিজ (৫০), ইব্রাহিম হোসেন (৪৫), আনারুল ইসলাম (২২), নাজমুল হক (৩৪), শামিম হোসেন (৩৬), আনোয়ার হোসেন (৩২) ও হরিনগর জেলেপাড়ার মুজিবুল হোসেন (৩৫)।
বেচেঁ ফিরে আসা দুই জেলে ফজের আলী ও সবুজ মিয়া জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে কাঁকড়া ধরার জন্য সুন্দরবনে যান। বনে কাঁকড়া শিকারের জন্য রবিবার তারা মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন খালে অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে তিনটি নৌকায় ১০ জন বন্দুকধারী তাদেরকে ঘিরে ধরে। প্রতি নৌকা থেকে একজন করে উঠিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিকাশ (০১৭৪১-৮৮২৬৫৭) নম্বর দিয়ে সেখানে মুক্তিপনের টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এসব জেলেরা আরও জানায়, ঋণ করে তারা বনে গিয়েছিল। এখন চালান (খরচের টাকা) তুলতে না পারার পাশাপাশি মুক্তিপণ দিয়ে সহকর্মীদের ছাড়াতে হবে। প্রতিজনের মুক্তিপণ বাবদ ডন বাহিনী ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছে। এমন দুরাবস্থার মধ্যে পড়ার থেকে মৃত্যু ভাল ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরবনের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক জানান, বনবিভাগের স্ম্যার্ট পেট্রাল টিমের সদস্যরা নিচে রয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি কোস্টগার্ডকেও একটু অবহিত করেন।
কোস্টগার্ড কৈখালী বিসিজি স্টেশন সুত্র জানান, ইতিমধ্যে বিষয়টি তারা শুনেছেন। অপহরণের শিকার জেলেদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। সবকিছু নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা নিশ্চিত করে জানান, ডন বাহিনী ইতিপুর্বে ২০১৮ সালে আত্মসমর্পন করেছিল। কিন্তু গত ৫ আগষ্টের পর আলিফ ওরফে অলিম, রবিউল বাহিনীর মত ডন বাহিনীও আগের মত সুন্দরবনে দস্যুরা শুরু করেছে। বাহিনী প্রধানের বাড়ি খুলনা হলেও তার দলে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের আটিরউপর গ্রামের শাহাজান, একই গ্রামের সফিকুল ইসলাম ওরফে ভেটো কাজ করছে। তবে সফিকুল ইসলাম শাহাজান বনে থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।