ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:০১ পিএম
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:২৩ পিএম
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে নোয়াখালীর এক বাস্তুহারা পরিবার। নবজাতক দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানকে নিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন ছাবিরা খাতুন আঁখি, যার স্বামী কর্মহীন হয়ে পড়ায় অর্থাভাবে বাসাভাড়া নেওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছে পরিবারটি। বৃষ্টি-শীত উপেক্ষা করে শহীদ মিনারের উন্মুক্ত স্থানে দিনযাপন, এ যেন জীবনযুদ্ধের এক নির্মম বাস্তচিত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহীদ মিনারের উন্মুক্ত স্থানে নবজাতক দুই ছেলে ও এগারো বছর বয়সি এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে রোধে শুকিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে আঁখি দম্পত্তি। কনকনে শীতের মৌসুমে শিশু সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন ও ভোরে চরম কষ্ট পাচ্ছেন আঁখি।
ছাবিরা খাতুন আঁখির স্বামী হাবিবুর রহমান সবুজ দীর্ঘদিন ছাগলনাইয়া পৌরসভার ঝাড়ুদার পদে কাজ করতেন। হঠাৎ সেই কাজ হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ে সবুজ। পরবর্তীতে সংসারের হাল ধরতে সে মেথরের কাজে নেমে পড়ে। ছয় বছরে আগে আঁখি তার সন্তানদের নিয়ে স্বামীর কর্মস্থল ছাগলনাইয়া আসে। ছোট্ট একটি কুঁড়ে ঘরে বিনা ভাড়ায় চলছিল তাদের বসবাস। ২০২৪-এর বন্যা পরবর্তী সময়ে সেই সুখের ঘরে বিষধর সাপের উপদ্রপ দেখা দেওয়ায় ছাড়তে হয় ঘরটি। চাকরিচ্যুত স্বামী মেথরের কাজ করে অতি অল্প রোজগার করায় বাসাভাড়া নেওয়ার সামর্থ নাই। চারদিকে ছোটাছুটি করে কোথাও আশ্রয় না পেয়ে নিরুপায় হয়ে তারা আশ্রয় নেয় শহীদ মিনারের উন্মুক্ত স্থানে। কয়েক মাসধরে এভাবেই চলছে তাদের সংসার জীবন।
এ বিষয়ে ছাবিরা খাতুন আঁখি জানায়, টানা কয়েক মাস এভাবে খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটাচ্ছি। দুই শিশুকে বুকের দুধ ছাড়া কিছু মুখে দেওয়ার সামর্থ নাই। কেউ কিছু খেতে দিলে সবাই সামান্য খাই। শহীদ মিনারে আশ্রয় নেওয়ায় রান্না করে খাওয়ার সুযোগ নাই। আশপাশে মলমূত্রত্যাগ করার ব্যবস্থাও নাই। শীতের রাতে বাচ্চাদের গায়ে জড়ানোর জন্য নেই কোনো শীতবস্ত্র। নবজাতক দুই শিশুকে টানা কয়েক মাস খোলা আকাশের নিচে রাখায় তারা জটিল রোগে ভুগছে।
তিনি জানান, গ্রামের বাড়িতে ভিটেমাটি না থাকায় ছাগলনাইয়ায় এসেছি। এখন অর্থ সংকটে বাসাভাড়া নিতে না পারায় অবুঝ শিশুদের নিয়ে অসহায় জীবনযাপন করছি। তিন অবুঝ শিশুর কষ্টের দিক বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে অথবা বিত্তবানদের প্রতি মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে আকুতি জানিয়েছেন এই নারী।