চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:১২ পিএম
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৫২ পিএম
বিশ্বাসভঙ্গ করে প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ জালিয়াতি করে প্রায় ১,৯৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই মামলাগুলোর প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তার ভাই, ছেলে এবং জনতা ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এছাড়াও রয়েছেন- গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
রাশেদুল আলম এবং কোম্পানির পরিচালক ফারজানা বেগম, মোহাম্মদ আবদুস সবুর, মো. শহিদুল
আলম, মো. সাইফুল আলম ও মো. ওসমান গনি। দুই ইনস্পেকশন এক্সিকিউটিভ খন্দকার রবিউল হক
ও খন্দকার জহিরুল, ব্যাংকের সাবেক এমডি ও সিইও মো. আব্দুস ছালাম আজাদ, সাবেক চেয়ারম্যান
এস এম মাহফুজুর রহমান এবং সাবেক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কামরান আহসান, শহিদুল হক, মাশফিউল
বারী, কামরুজ্জামান খান, আব্দুল জব্বার, তাজুল ইসলাম ও ইসমাইল হোসেন প্রমুখ। আসামিদের
বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি, প্রতারণার মাধ্যমে এলসির (Letter of Credit) বিপরীতে
প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিং বা বিদেশে অর্থ পাচারের
অভিযোগ আনা হয়েছে।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১
এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত
জেলা কার্যালয়-১ এর উপরিচালক সুবেল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজহারে আসামিদের
বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে ঋণের সীমা অনুমোদন, ঋণের শর্ত লঙ্ঘন এবং অতিরিক্ত
ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড দায় তৈরি করার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মামলার এজহার থেকে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে
ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রতারণার মাধ্যমে ঋণের লিমিট অনুমোদনপত্রের
শর্ত ভঙ্গ করে ফান্ডেড লায়াবিলিটি এবং নন-ফান্ডেড লায়াবিলিটি সীমাতিরিক্ত দায় সৃষ্টি
করে, এলটিআর লিমিটে সীমাতিরিক্ত দায় সৃষ্টি করে, মেয়াদোত্তীর্ণ এলটিআর সৃষ্টি করে,
সীমাতিরিক্ত/ মেয়াদোত্তীর্ণ দায় থাকা অবস্থায় এলটিআর
দায় সৃষ্টি করে, জাহাজি দলিলাদি হস্তান্তরের পূর্বে নির্ধারিত মার্জিন আদায়পূর্বক এলটিআর
খাতে জমা করার নির্দেশনা থাকলেও শাখা প্রয়োজনীয় অংকের মার্কিন আদায় না করেই এলটিআর
দায় সৃষ্টি করে, প্রতিটি এলটিআরের বিপরীতে পৃথক পৃথক চার্জ ডকুমেন্ট এবং ট্রাস্ট রিসিট
(Trust Receipt) গ্রহণ না করে, চেক গ্রহণ না করে, গ্রাহকের গুদামে রক্ষিত দ্রব্যাদির
সকল প্রকার ঝুঁকি সংবলিত বীমার আওতায় সংরক্ষণের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকিসমূহ
কভার করার জন্য বীমা না করে, লিমিট মঞ্জুরিপত্রের শর্তানুযায়ী এলটিআর প্রদানের পূর্বে
সার্ভে করিয়ে এলসি শর্তানুযায়ী আমদানিতব্য মালামাল আমদানি হয়েছে মর্মে শাখা নিশ্চিত
না হয়েই এলটিআর দায় সৃষ্টি করে, ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্য অনুসারে ঋণের যথাযথ ব্যবহার করা
হবে মর্মে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে গ্রাহকের কাছে থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা না নিয়ে,
এলটিআর লিমিট মঞ্জুরিপত্রের শর্তানুযায়ী কোনো অবস্থাতেই নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানি
করা যাবে না মর্মে নির্দেশনা থাকলেও এস আলম গ্রুপভুক্ত/নামীয় প্রতিষ্ঠান থেকে এলসির
মাধ্যমে আমদানি করে, মর্টগেজকৃত সম্পত্তির অতিরিক্ত মূল্যায়ন করে, প্রয়োজনের তুলনায়
কমসহায়ক জামানত নিয়ে, মঞ্জুরিপত্রের শর্তানুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ঋণের টাকা ব্যাংকে
জমা না দিয়ে/না নিয়ে, নিজস্ব প্রতিষ্ঠান/গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল আমদানির
মাধ্যমে ঋণের টাকা স্থানান্তর, রূপান্তর, হস্তান্তর করে ২০১০ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে
২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সুদাসলে মোট ১ হাজার ৯৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে
আত্মসাতে সহায়তা করে দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের
৫(২) ধারা তৎসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, আসামিরা ব্যাংকিং বিধি ও অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে ঋণের সীমা অনুমোদন ও নবায়ন করেছেন। মার্জিন মানি সংগ্রহ না করেই এলটিআর [লেটার অব ট্রাস্ট রিসিপ্ট] ইস্যু করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রাস্ট রিসিপ্টের জন্য আলাদা চার্জ ডকুমেন্ট খোলা হয়নি এবং আমদানিকৃত পণ্য আসলেই দেশে পৌঁছেছে কি না, তাও যাচাই করা হয়নি। বেশ কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে নন-জুডিশিয়াল অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়নি এবং গ্রাহকের গুদামে থাকা পণ্যের বীমা কাভারেজও নিশ্চিত করা হয়নি।