মো. নাঈম ইসলাম, শেরপুর
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৫৯ এএম
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৪৭ পিএম
শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড়ের পাদদেশে গজনী অবকাশ কেন্দ্রের প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। প্রবা ফটো
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য গড়ে উঠেছে মনোমুগ্ধকর গজনী অবকাশ কেন্দ্র। শাল, গজারি, সেগুন গাছের সঙ্গে ছোট-বড় মাঝারি টিলা, পাহাড় থেকে বয়ে আসা ঝিরি, লতাপাতার বিন্যাস আর স্থানীয় সাতটি নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় স্থানটি হয়ে উঠেছে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে ঝুলন্ত সেতু ও লেক।
ব্রিটিশ আমল থেকেই ভারতের মেঘালয় পাহাড় গজনী অবকাশ কেন্দ্রটি পিকনিক স্পট হিসেবে পরিচিত। জেলা শহর থেকে এর অবস্থান মাত্র ২৮ কিলোমিটার দূরে। প্রায় ২৭০ বিঘার এলাকাটিকে অবকাশ কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় ১৯৯৩ সালে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা অবকাশ কেন্দ্র-ঘেঁষা উত্তরে মেঘালয় রাজ্যের পোড়াকাশিয়া গ্রাম। এর চারদিকে ছোট-বড় অসংখ্য টিলা। প্রতিটি টিলা যেন সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি।
স্থানীয় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাহাড়ের বুকজুড়ে তৈরি করা হয়েছে সুদীর্ঘ ওয়াকওয়ে। হেঁটে পাহাড়ের স্পর্শ নিয়ে লেকের পাড় ধরে হেঁটে যাওয়া যায় এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে। পড়ন্ত বিকালে ছোট ছোট নৌকায় করে ঘোরার জন্য আছে বিশাল লেক। লেকের ওপর তৈরি করা হয়েছে সেলফি ব্রিজ। রয়েছে মুক্তমঞ্চ; মুক্তমঞ্চ থেকে প্রায় ৩০ ফিট নিচে খোলা মাঠে নেমে আসার জন্য আছে পদ্মব্রিজ। আছে গারো মা ভিলেজ। এখানে মাশরুম ছাতার নিচে বসে বা পাখি বেঞ্চে বসে পাহাড়ের ঢালে আদিবাসীদের জীবনযাত্রা, দিগন্তজোড়া ফসলের ক্ষেত আর পাহাড়ি জনপদের ভিন্ন জীবনমান উপভোগ করা যায় সহজেই। শিশু দর্শনার্থীদের জন্য আছে চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্ক, যেখানে শিশুরা ট্রেনে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ উপভোগ করতে পারে।

এখানের কৃত্রিম স্থাপনা ও ভাস্কর্যগুলো সাজানো হয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে। রয়েছে মৎস্যকন্যা বা জলপরী, ডাইনোসর, ড্রাগন টানেল, দণ্ডায়মান জিরাফ, হাতির প্রতিকৃতি, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, লেক ভিউ পেন্টাগন, স্মৃতিসৌধ, ওয়াচ টাওয়ার। আছে ক্রিসেন্ট লেক। লেকের ওপর রংধনু ব্রিজ, কৃত্রিম জলপ্রপাত, শাপলা কলি, কবি নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিফলক। এ ছাড়া আছে মাটির নিচ দিয়ে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়ার জন্য ড্রাগন টানেল। এর মুখে পাতালপুরী, লাভলেইন আর কবিতাবাগ। অবকাশের অন্যতম আকর্ষণ ৮০ ফুট উঁচু সাইট ভিউ টাওয়ার। এর ওপর থেকে দেখা যায় মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন স্থাপনা আর পাহাড়ি টিলার বৈচিত্র্যময় অপরূপ দৃশ্য। তবে পর্যটকদের আকর্ষণ কেবল কার, জিপলাইনিং, ওয়াটার কিংডম, প্যারাট্রবা আর দৃষ্টিনন্দন ভাসমান সেতু। কেবল কারে যাওয়া যায় এক পাহাড় হতে অন্য পাহাড়ে।

তবে গজনী অবকাশ কেন্দ্রে রাতযাপনের জন্য সরকারি কোনো হোটেল-মোটেল নেই। গজনীর অদূরে বনরানী রিসোর্ট নামে একটি হোটেল থাকলেও সেটিতে নেই পর্যাপ্ত কক্ষ। তাই দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের থাকতে হয় ২৮ কিলোমিটার দূরে শেরপুর শহরে। এজন্য গজনীতে সরকারিভাবে হোটেল-মোটেলের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পর্যটকদের। নিরাপত্তার জন্য পর্যটনকেন্দ্র ও আশপাশে সম্প্রতি ৪২টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, গজনী অবকাশ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধুনিক বিনোদনের মেলবন্ধন, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয়।