নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৪১ পিএম
ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে দলীয় পদ হারিয়েছেন এক জামায়াত নেতা। নারী কেলেঙ্কারসহ নানা অভিযোগ ওঠে উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হাফেজ নুরুল্লাহর বিরুদ্ধে। এরপর তদন্ত কমিটি গঠন করে দলটি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে জামায়াত।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে এক অচেনা নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিওকলের ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া নুরুল্লাহ কৃষ্ণকাঠী এলাকার একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসায় কর্মরতÑসেখানে এক ছাত্রের মায়ের মোবাইলে নিয়মিত কুপ্রস্তাব পাঠানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হলে ছাত্রের প্রবাসী বাবার স্বজনরা তাকে ধরে গণপিটুনী দেয়।
এছাড়া, নুরুল্লাহ নিজেকে কখনো ইসলামিক বক্তা, কখনো সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার ফেসবুকে ‘মো. ফিরুজ আলম নুরুল্লাহ’ নামে আরেকটি পরিচয় পাওয়া যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে সন্দেহ তৈরি করে। ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর ৩ ডিসেম্বর দৈনিক আমাদের বরিশাল–এর সম্পাদক ফেসবুকে ঘোষণা দেন, নুরুল্লাহকে রিপোর্টার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন স্তরের অভিযোগ ওঠার পর জেলা ও উপজেলা জামায়াত তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেখানে নারী হয়রানি, নৈতিক অসঙ্গতি এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে রানাপাশা ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতির পদ স্থগিত করা হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।
তবে এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জামাত নেতা মো. নুরুল্লাহকে মুঠোফোনে একাদিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ফরিদুল হক বলেন, জামায়াতে ইসলামী নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার বাইরে কোনো আচরণ বরদাশত করে না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় তার পদ স্থগিত করা হয়েছে।