পটুয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৩৯ পিএম
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ছোটবিঘাইতে জমি দখলের অভিযোগে স্থানীয় মুসলিম ও খ্রিস্টানরা জমির পাশে দাড়িয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদে একত্বতা প্রকাশ করছে।
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের খ্রিস্টান পল্লীর বাবুল গোমেজ নামের এক বাসিন্দার ভোগদখলীয় জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে জমিতে ধান পাকতে শুরু করলেও খ্রিস্টান পল্লীর কেউই ক্ষেতে যেতে পারছেন না। এমনকি বাবুলের জমিতে নতুন করে তরমুজ রোপণ শুরু করেছে দখলকারীরা। বাবুল গোমেজ খ্রিস্টান পল্লীর সভাপতি।
তিনি জানান, গত ৫ আগস্ট থেকে জমি নিয়ে হুমকি–ধমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়তে থাকে। উপায়ান্তর না দেখে ২৬ আগস্ট তিনি পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ জানান।অভিযোগের চার মাস পার হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে তিনি ও তাঁর পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
বাবুল গোমেজ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমন মৌসুমে আবুল বাশারের লোকজন ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে। বাকি অংশের ধান পাকলেও সশস্ত্র হুমকির কারণে খ্রিস্টান পল্লীর কেউই ক্ষেতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। খ্রিস্টান পল্লীর সভাপতি হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াই বলেই আমাকে এলাকা থেকে তাড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে,।’
আবুল বাশার স্থানীয় বাসিন্দা ও বাবুল গোমেজের প্রতিবেশী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবুল বাশারের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। এলাকাতে থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি-জমা দেখা শোনা করেন।
বাবুল জমির মালিকানা নিয়ে বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই খ্রিস্টান পল্লীতে বসবাস করছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ করি, ফসল উৎপাদন করি, সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করি।
১৯৮৬ সালে সরকার তাঁর অনুকূলে ২ একর জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়। সরকারি কবুলতনামা, এসএ-বিএস রেকর্ড এবং ২০২৪–২৫ অর্থ বছরের খাজনা—সবকিছুই তাঁর নামে হালনাগাদ রয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আবুল বাশার বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে বাবুল জোর করে জমি ভোগদখল করেছেন। জমিটি আমাদের। তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর তাঁরা উচ্চ আদালতে গেলে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তাই জমিটি নিজেদের দাবি করছেন।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক সাদেকুর রহমান বলেন, “এর আগে দুজন কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন। এখন আমি দেখছি। কয়েকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত তারিখে আবুল বাশার জমির মালিকানার কাগজপত্র না আনায় সমাধান হচ্ছে না।
খ্রিস্টান পল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। পল্লীর অনেকেই রাতে বাড়ির বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। কৃষিকাজ বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটও তৈরি হয়েছে। শুধু তাদের জমিই দখল করছে না, বরং কিছু মুসলিমদেরও জমি দখল করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি বন্দোবস্ত ও রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও একটি পরিবারের জমি নিয়ে এমন অচলাবস্থা কেন?