সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৫৯ পিএম
সমালোচিত ওসি জেওএম তৌফিক আজমের বদলির আদেশ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সিংগাইরের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দুটোই দেখা গেছে। ফেসবুকে নানা মন্তব্য, স্ট্যাটাস ও প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয়রা তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি বদলির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওসি তৌফিক আজমের নানা অনিয়ম ও অসদাচরণে এলাকায় একধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
এর আগে দৌলতপুর থানায় দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করে বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। সেই ঘটনায় মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন সাংবাদিকরা।
সিংগাইর থানায় যোগদানের পরেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গর্ভবতী সাময়া আক্তারকে এসআই পার্থ শেখর ঘোষের মাধ্যমে লাথি মারানোর অভিযোগ, বিএনপি নেতা সেলিম হোসেনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রচেষ্টাÑ এসব বিষয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। এমনকি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একাধিক খবর ছাপা হলেও পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পরে নিরুপায় হয়ে রহিমা খাতুন বাদী হয়ে ওসির বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ জেলা আদালতে জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে মারধর করায় মামলা দায়ের করেছেন।
জানা যায়, ওসি তৌফিক আজম নাকি বিভিন্ন জনের কাছে বলেছেন, এসপি ম্যাডাম তো আমার আপনজন, সমস্যা হবে না। ওসির বিরুদ্ধে একাধিক খবর ছাপা হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদেরও তিনি মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
এতসব অভিযোগ ও ক্ষোভের পর বদলির আদেশকে সিংগাইরের সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস হিসেবে দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমে কেউ লিখেছেন, অবশেষে অবিচারের প্রতিকার শুরু হলো। আবার কেউ বলেছেন, সিংগাইর মুক্ত হলো দুঃশাসনের হাত থেকে।
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ওসি তৌফিক আজমের সঙ্গে কথা বলতে একাধিকবার তার সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।