মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:২৩ পিএম
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে দেশের বৃহত্তম মৎস্যভান্ডার ‘হাইল হাওর’। এই জলাভূমি শ্রীমঙ্গলের ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের অংশের লইত্তা মেট্টা ও কানকাটা বিল সরকার মহামায়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে তিন বছরের জন্য ইজারা দিয়েছে।
কিন্তু লইত্তা মেট্টা ও কানকাটা বিলসহ আশপাশের বিলে পলো উৎসবের নামে দেশীয় মাছ লুট করা হয়েছে। গত সোম ও বৃহস্পতিবার হাজার হাজার মানুষ পলো দিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাখ লাখ টাকার মাছ লুটে নেয়। এতে হাইল হাওরের দেশীয় মাছে বাস্তস্থল ধ্বংস যেমন হয়েছে, পাশাপাশি ইজারাদার আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল আহাদের নেতৃত্বে পলো দিয়ে মাছ শিকারের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন মহামায়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির লোকজন। এ ব্যাপারে গত মঙ্গলবার মহামায়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য সুজিত সরকার শ্রীমঙ্গল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে আনুমানিক ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নিয়েছে শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশ। এদিকে একই দিন দুপুরে সোম ও বৃহস্পতিবারের মাছ লুটের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে জরুরিভিত্তিতে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা ইউএনও ইসলাম উদ্দিন।
মহামায়া মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য সুজিত সরকার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা আহাদ সমিতির কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় জলমহাল থেকে মাছ লুট করেছেন। তার নেতৃত্বে পলো উৎসবে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে বিএনপি নেতা আব্দুল আহাদ বলেন, আমার নামে যে চাঁদা দাবির অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। স্থানীয়দের অভিযোগে হাওরের নেটের বেড়া অপসারণে লইত্তা মেট্টা ও কানকাটা গিয়েছি। এর বেশি আর কিছু নয়। পলো উৎসব কারা করেছে জানি না।’