বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৬ পিএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:১৩ পিএম
উদ্বোধনের চার বছর পরেও পানিশূন্য উচ্চ জলাধার। প্রবা ফটো
উদ্বোধনের চার বছর পরও বরগুনার বাগানবাড়ি ও থানাপাড়া রোডে প্রায় ৬ কোটি টাকায় নির্মিত দুটি উচ্চ জলাধারে এখন একফোঁটা পানিও ওঠেনি। পানি শোধনাগার বন্ধ থাকায় এবং সঞ্চালন লাইন সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রকল্পটি কোনো কার্যকারিতা পায়নি। এদিকে পানি শোধনাগারের দুটি পুকুর মাছ চাষের জন্য লিজ দেওয়ার অভিযোগ তুলছে এলাকাবাসী।
২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত এ ট্যাংকগুলোর ধারণক্ষমতা মিলিয়ে ১০ লাখ লিটার।
জানা যায়, এই ওভারহেড ট্যাংকে পানি ওঠার কথা ছিল ১৯৯৮ সালে নির্মিত পুরনো পানি শোধনাগার থেকে। কিন্তু গ্রাহক সংকটের কারণে শোধনাগারটি ২০১২ সালেই বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অচল থাকায় হারিয়ে গেছে প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রাংশ। ফলে এখনই নতুন ট্যাংকগুলো চালু করার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। প্রকল্পটি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন পানির মিটার স্থাপন করার লক্ষ্যে প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু চার বছরেও মিটারগুলোর কার্যকারিতা শুরু হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, টাকা নেওয়ার পরও মিটারের কোনো উপকার পাইনি। পানি আগের মতোই পুরনো লাইন দিয়ে আসে, তাও নিয়মিত নয়।
সুমন হোসেন জলাধারের পাশের ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি বলেন, এতো কোটি টাকা খরচ করে ট্যাংক বানানো হলো, কিন্তু পানিই ওঠে না—এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কী হতে পারে? আমরা এখনো আগের মতোই কষ্ট করে পানি সংগ্রহ করি।
গৃহিণী রিনা আক্তার বলেন, শুনেছিলাম ট্যাংক হলে পানির সমস্যা কমবে। কিন্তু চার বছরেও কিছু পেলাম না। শুধু বড় বড় কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে।
সাগর মল্লিক নামে এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকল্প নেওয়ার সময় যে সব আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তার একটাও বাস্তবায়ন হয়নি। এভাবে টাকা দিয়ে শুধু স্ট্রাকচার দাঁড় করালে জনসাধারণের কোনো উপকার হয় না।
দেখা যায়, পুকুরের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে দোতলা টিনের ঘর। সেখানে থাকা লিজ গ্রহীতার কর্মচারীরা পুকুর লিজ প্রসঙ্গে জানান, পাঁচ বছরের জন্য পুকুর দুটো লিজ নেওয়া হয়েছে।
পুকুরে পানি জমে থাকার কারণে ডেঙ্গুর বিস্তার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বরগুনা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আগের মেয়রের আমলে কাউকে লিজ দেওয়া হয়েছে—এমন কথা শুনেছি। তবে আমাদের কাছে কোনো নথি নেই। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দীর্ঘদিন অচল থাকায় জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানানো হয়েছে।
পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন,সঞ্চালন লাইন এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। এ কারণেই ওভারহেড ট্যাংক ব্যবহার করা যায়নি। প্রকল্পটি জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছে; অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা যাবে।