চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৫৭ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩:০০ পিএম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়নে বিতর্কিত ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমানকে ঘিরে আবারও তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্নের ঝড় উঠেছে। মাত্র তিন মাস আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে দুই দিনের মাথায় তা প্রত্যাহার করেছিল প্রশাসন।
তবে এবার তাকে গ্রাম আদালতের দায়িত্ব দেওয়ার নতুন উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। বারবার একই ব্যক্তিকে দায়িত্বে বসানোর এই প্রচেষ্টা নিয়ে উঠেছে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো ও লেনদেনের অভিযোগ।
গত ১২ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে নলুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিজানুর রহমানকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তীব্র সমালোচনার জেরে দুদিন পরই ১৪ আগস্ট আদেশটি বাতিল করা হয়।
স্থানীয় একজন ইউপি সদস্য জানান, আমাদের ইউপি সচিব বলেছেন মিজানুর রহমানকে গ্রাম আদালতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদেশের চিঠি দেখাতে চান না। এটা নিয়ে প্রশাসন কিছু বলছেও না। বারবার একই ব্যক্তিকে দায়িত্বে বসানোর চেষ্টাÑ এতে বড় ধরনের লেনদেন হয়েছে বলেই মনে হয়।
এ বিষয়ে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আপনাকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। মিজানকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, মিজানুর রহমান নলুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মরফলা শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি ছিলেন। তিনি সাবেক এমপি আবু রেজা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন নদভী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এলাকায় প্রতিপক্ষকে হয়রানিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগও রয়েছে।
জানা যায়, মিজানুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার জন্য একটি লিখিত আবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, যেখানে ১২ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে ৮ জনের সই রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর মধ্যে মোজাম্মেল হক, মো. শহিদুল্লাহ, নুরুল কবির ও ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার নজরুল ইসলাম স্বাক্ষর দেননি। নজরুল ইসলাম নির্বাচনের ৫ মাস পরে বিদেশে চলে যান বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৫ আগস্টের পর ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীও পালিয়ে সৌদি আরবে চলে যান। কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ তাদের চাপ দিয়ে সই করানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মেম্বার বলেন, আমরা তিন-চারজন সদস্য নিয়মিত ইউনিয়নে যাই। ৮ জনের স্বাক্ষর কীভাবে নিলÑ তা স্পষ্ট নয়। আদেশ একবার বাতিল হওয়ার পরই বোঝা যায় অভিযোগ সত্য ছিল।
অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান বলেন, কাউকে চাপ দিয়ে সই নিইনি। সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে গেছেন। আমাকে হেয় করার জন্য এসব করছেন।