পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২৮ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৩৬ পিএম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন লতাচাপলিতে ট্যুরিস্ট পরিচয় দিয়ে চালককে ছুরিকাঘাত করে একটি বোরাক অটোগাড়ী ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় মামলা দায়েরর পর পুলিশ পটুয়াখালী, বরিশাল ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইচক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন পটুয়াখালীর মহিপুরের মো. নাসির হাওলাদার (৩৯), মো. শাহীন হাওলাদার(২২), জেলার দুমকির মোঃ রাহাত হাওলাদার(২৭) , পটুয়াখালীর সদরের আবুল বাশার(৩৫) ও মোঃ জসিম হাওলাদার(৩৮), বরিশালের বাকেরগঞ্জেরমো. লিটন আকন (৫৭) এবং রবগুনার আমতলীর মো. জাকির হোসেন গাজী(৪৫) ।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, অটো চালক মো. মুছা একটি বোরাক অটোগাড়ী চালিয়ে সংসার চালাতেন। গত ৩০ নভেম্বর বিকেল ৫ টার দিকে পর্য়টন কেন্দ্র কুয়াকাটা চৌরাস্তায় অটো নিয়ে অবস্থানকালে অজ্ঞাতনামা এক জন ট্যুরিস্ট পরিচয় দিয়ে তার অটোতে করে সূর্য্যদয় স্পটে যাবে বলে তার মোবাইল নম্বর নেয়। পরে রাত অনুমান ৯ টার দিকে ওই ব্যাক্তি ফোন দিয়ে দিবাগত রাত ৩ টার দিকে তাদের নিয়ে সূর্য্যদয় স্পটে যাবার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলে। পরবর্তীতে ৩ টায় আবার অটো চালক মুছাকে কুয়াকাটা এলাকার মম্বিপাড়া গ্রামের নতুন বাজার বেড়িবাঁধের পাঁকা রাস্তায় যেতে বলে। রাত সাড়ে ৩ টার দিকে চালক মুছা তার অটোটি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছালে ট্যুরিস্ট পরিচয়দানকারী অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী চক্র চালক মুছাকে এলোপাথারী মারধর শুরু করে। একপার্যায় ছিনতাইকারীরা মুছার হাত, পা বাঁধার চেষ্টা করে এবং গলায় চাকু ধরে খুন জখমের ভয়ভীতি দেখায়। এসময় ছিনতাইকারীদের মধ্যে একজন মুছার পিঠে চাকু দ্বারা আঘাত করলে গুরুতর রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হয়ে মুছা রাস্তার উপর পরে গেলে ছিনতাইকারীরা মুছার ব্যাটারী চালিত বোরাক অটোগাড়ী জোর পূর্বক ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
এদিকে পুলিশ অটো ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম ঘটনাস্থল পৌছে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানের সিসিক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ পূর্বক তা পর্যালোচনা করেন। ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ, এলাকার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, প্রযুক্তিগত উপায়ে বিশ্লেষণ করে ছিনতাইকারীদের সনাক্ত করে। এদের মধ্যে মোঃ নাসির হাওলাদার, মোঃ শাহিন হাওলাদার, মোঃ জাকির হোসেন গাজী ও মোঃ লিটন আকন এই চারজন ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত পাওয়া যায় এবং ছিনতাই করে নেওয়া অটোগাড়ী মোঃ রাহাত হাওলাদারের নিকট বিক্রয় করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে আরো তিনটি ছিনতাইকৃত অটো উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা ছিনতাইয়ের ঘটনার জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।