ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়েছিলেন রেদোয়ান হোসেন শাওন ভুঁইয়া (২৫)। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই লিবিয়ার মাটিতে শেষ হলো তার জীবনের পথচলা। দালালচক্রের খপ্পরে নানা নির্যাতন, অনাহার–অর্ধাহার ও ঠান্ডাজনিত জটিলতায় তিনি আইসিইউতে ভর্তি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত রেদোয়ান ভুঁইয়া উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আইয়েনগর গ্রামের বাসিন্দা সবর আলী ভূঁইয়া বাড়ির মো. সৈয়দ ভুঁইয়ার ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে রেদোয়ান ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি ত্যাগ করেন। পরে দালালদের খপ্পরে পড়ে তিনি দুবাইসহ বিভিন্ন দেশ হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে দালালদের প্রতারণা, খাবারের অভাব, অমানবিক নির্যাতন ও মারধরের শিকার হন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, বৈরবের সুমন নামের এক দালাল ও তার সহযোগী আরও দুইজন মিলে রেদোয়ানকে দীর্ঘদিন ধরে মারধর ও নির্যাতন করে। নির্যাতনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লিবিয়ার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে রেদোয়ান মারা যাওয়ার পরও দালালচক্র পরিবারকে কোনো তথ্য জানায়নি।
পরিবারের ধারণা, রেদোয়ানের মৃত্যু হয়েছে এক মাস আগেই, কিন্তু দালালচক্র তাদের মারা যাওয়ার খবর জানায়নি। শুধু বলেছে, সে মেডিকেলে ভর্তি আছে, অসুস্থতার কারণে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
রেদোয়ান পরিবার জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর বুধবার (৩ডিসেম্বর) রাতে শাহজালাল বিমানবন্দরে লাশ আসার পর সেখান থেকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
রেদোয়ানের ছোট ভাই আব্দুল হামিদ বলেন, “দালালেরা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। তারা কখনও আমাদের সত্য কথা বলেনি। ভাই অসুস্থ হওয়ার পরও আমরা জানতাম না। বর্তমানে আমার ভাইয়ের লাশ দালাল চক্র দেশে পাঠিয়ে দিলে আমরা বাড়িতে নিয়ে আসি। সঠিক তদন্ত ও দালালচক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।”