শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৩০ পিএম
শিক্ষকদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির কারণে স্কুলে তালা ঝুলে থাকা অবস্থায় বাইরে অপেক্ষায় ছিল শ্রীবরদী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল এগারোটার দিকে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে পরীক্ষা শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ। এসময় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরন নবী উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, শেরপুর জেলার ৭৪১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বুধবার থেকে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। চার দফা দাবিতে ১ ডিসেম্বর থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শুরু করেন লাগাতার কর্মবিরতি। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা, শূন্যপদে নিয়োগ ও পদোন্নতি দ্রুত কার্যকর করা, টাইম স্কেল–সিলেকশন গ্রেড বকেয়া পরিশোধ, এবং আগের মতো সহকারী শিক্ষকদের অগ্রিম বেতন সুবিধা বজায় রাখা।
শিক্ষকদের তালাবন্দি কর্মসূচির কারণে পরীক্ষায় বাধা সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
শহিদুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক বলেন, হঠাৎ পরীক্ষা বন্ধ হওয়ায় শিশুরা মানসিক চাপে রয়েছে। শিক্ষকরা এতোদিন দাবি জানানোর সময় পাননি। আমাদের বাচ্চাদের পড়াশোনার ক্ষতি করে কিসের আন্দোলন। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তাদের এই আন্দোলন।
আরেক অভিভাবক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, কোমলমতি শিশুদের জিম্মি করে শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমেছেন। সরকারকে কঠোর হতে হবে, আমার বাচ্চাদের ক্ষতি হবে, আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখবো তা হয় না। এসব শিক্ষকদের বাদ দিয়ে প্রয়োজনে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া উচিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জরুরি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষকদের অবিলম্বে পরীক্ষায় ফিরতে নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মবিরতি বা শাটডাউন অব্যাহত থাকলে সরকারি চাকরি আইন, আচরণবিধি ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।