× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খুলনা বিভাগে এইচআইভি আক্রান্ত ১০৮ জন, বেশিরভাগই তরুণ

খুলনা অফিস

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:২৫ পিএম

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

খুলনা অঞ্চলে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এইচআইভি/এইডস সংক্রমণ হার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের বিস্তার এবং অনিরাপদ রক্ত গ্রহণের কারণে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই রেড অ্যালার্ট পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বলছে, এখন আর সংক্রমণ শুধু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং সাধারণ শিক্ষার্থী, তরুণ কর্মজীবী এবং নিয়মিত চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মাঝেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের এআরটি (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরে ১ হাজার ২৭৯ জনের রক্ত পরীক্ষায় ১০০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর আগের বছর শনাক্ত হয়েছিল ৮৫ জন। এ বছর মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে, যা আগের বছরের তুলনায় তিনজন বেশি। সামগ্রিকভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ অঞ্চলে মোট ১০৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এআরটি সেন্টারের তথ্য বলছে, শনাক্ত হওয়া ৫৬ জন রোগীর বড় অংশই সাধারণ জনগোষ্ঠী। এছাড়া সমকামী পুরুষ ৩৭ জন এবং রক্তের মাধ্যমে আক্রান্ত ৭ জন রোগীর সংখ্যাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

জেলার ভিত্তিতে দেখা যায়, শুধু খুলনা জেলাতেই শনাক্ত ৪৯ জন, বাগেরহাটে ১৬, নড়াইলে ১১, সাতক্ষীরায় ১১ এবং যশোরে ৬ জন। আক্রান্তদের বেশিরভাগের বয়সই ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এবং অনেকে বিভিন্ন কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো- গত এক বছরে অন্তত ২০ জন সাধারণ রোগী শুধুমাত্র অনিরাপদ রক্ত গ্রহণের কারণে এইচআইভি পজিটিভ হয়েছেন। সিজারিয়ান অপারেশন, জরুরি অস্ত্রোপচার বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে গিয়ে তারা বিভিন্ন বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত নিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে স্ক্রিনিং ব্যবস্থা দুর্বল; অনেক ক্ষেত্রে সঠিক পরীক্ষা ছাড়াই রক্ত সরবরাহ করা হয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাউন্সিলর কাম এডমিনিস্ট্রেটর দিবেশ ওঝা জানান, প্রতি বছর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, এবং আক্রান্তদের মধ্যে সাধারণ জনগোষ্ঠীর হারই সর্বাধিক। বর্তমানে এআরটি সেন্টারে নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা ৮৮৭ জন, যার মধ্যে ৫৪২ জন পুরুষ, ৩৩৮ জন নারী ও ১৭ জন তৃতীয় লিঙ্গের। তাদের মধ্যে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫৫০ জন। বাকিদের কেউ মারা গেছেন, কেউ আবার অন্য সেন্টারে চলে গেছেন।

চিত্রটিকে আরও জটিল করেছে কনফার্মেটরি টেস্ট কিটের তীব্র সংকট। এআরটি সেন্টারের ফোকাল পারসন ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক স্ক্রিনিং করতে পারলেও চূড়ান্ত নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে কিট দরকার, তা প্রায়সই পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ফলস পজিটিভ বা ফলস নেগেটিভের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রোগীরা বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যের পরীক্ষা করাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট প্রকৃত সংক্রমণের তথ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করছে এবং শনাক্ত না হওয়া রোগীরা অজান্তেই ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান মনে করেন, শুধুমাত্র যৌন সংক্রমণের দোষ দিয়ে সমস্যাকে ছোট করে দেখা যাবে না। তিনি বলেন, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুঁচ, ড্রাগস ইনজেকশন, হাসপাতালের পুনর্ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ- তরুণদের বাস্তব তথ্য জানাতে হবে, ভয় দেখিয়ে নয় বরং বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে সচেতন করতে হবে।

গত চার বছরে খুলনা অঞ্চলে মোট ৩২১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ৮৮ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃত্যুর মূল কারণ হলো দেরিতে হাসপাতালে আসা, নিয়মিত ওষুধ না খাওয়া, এবং যথাযথ পরীক্ষা না করানো। তারা মনে করিয়ে দেন, এইচআইভি এখন আর মৃত্যুদণ্ডের সমান নয়। নিয়মিত চিকিৎসা নিলে রোগী বহু বছর সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারেন।

তবে বাস্তবে বড় বাধা হলো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, সামাজিক লজ্জা, পরীক্ষায় অনীহা, অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক এবং ড্রাগস ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তরুণদের মধ্যে সংক্রমণের হার এত দ্রুত বাড়ছে যে এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে খুলনা অঞ্চল বাংলাদেশে একটি নতুন হটস্পটে পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে সব রক্ত ব্যাংকে কঠোর স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিয়মিত টেস্ট নিশ্চিত করা, তরুণদের জন্য স্কুল-কলেজ পর্যায়ে বড় আকারের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা, এআরটি সেন্টারে কিট সংকট সমাধান ও বাজেট বাড়ানো এবং ড্রাগস ব্যবহারকারী ও যৌনকর্মীদের মাঝে প্রতিরোধমূলক সরঞ্জাম বিতরণ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা