× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খুলনা সিটি করপোরেশন

প্রকল্প বাস্তবায়নেও পানি সমস্যার সমাধান নেই

মাশরুর মুর্শেদ, খুলনা

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৪৮ এএম

প্রকল্প বাস্তবায়নেও পানি সমস্যার সমাধান নেই

খুলনা শহরের দীর্ঘদিনের পানির সংকট দূর করার জন্য ২০১১ সালে শুরু হয় খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প। প্রায় ২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকার ব্যয়ে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়Ñ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মধুমতী নদীর পানি ব্যবহার করে স্থায়ী সমাধান করা হবে।

২০১৯ সালে প্রকল্প শেষ করার পর ওয়াসা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল এখন থেকে খুলনা নদীর পানিনির্ভর জলব্যবস্থা কার্যকর করা যাবে।

কিন্তু অনুসন্ধানে উঠে এসেছে পুরোপুরি ভিন্ন এক চিত্র। মধুমতীর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো তো দূরের কথা, ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলন বরং আরও বেড়েছে। ফলে খুলনার পানি নিরাপত্তা এবং পরিবেশ দুটোই এখন প্রচণ্ড হুমকির মুখে পড়েছে।

ওয়াসা সূত্রে পাওয়া অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, নগরীর ৩৮টি পাম্প থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি লিটার ভূগর্ভস্থ পানি তোলা হচ্ছে। আরও উদ্বেগের বিষয় পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২-এর আওতায় নতুন করে ৭৫টি গভীর নলকূপ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রকল্প অনুমোদন মিললে শুকনো মৌসুমে এই পাম্পগুলো দিয়ে প্রতিদিন ১০ কোটি লিটার পানি তোলা হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ফোকাল পারসন কামাল হোসেন বলেন, এপ্রিল-মে মাসে নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যায়। তখন বিকল্প হিসেবে কিছুটা ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে হবে। এতে ক্ষতি হবে বলে মনে করি না।

কিন্তু গবেষকরা বলছেন, ওয়াসা যে অ্যাকুইফার থেকে পানি তুলছে, তার ধারণক্ষমতা নিয়ে এই ‘আশাবাদী বক্তব্য’ বাস্তবসম্মত নয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, দক্ষিণাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে দ্রুত পানি হারানো অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বার্ষিক পুনরায় পূরণ (রিচার্জ) হার কমে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে।

তার ভাষায়, ওয়াসা যে গভীর অ্যাকুইফার থেকে পানি তুলছে, তা পুনরায় পূরণ হতে ৩৫ থেকে ৪০ বছর সময় লাগবে। এর ওপর অতিরিক্ত চাপ দিলে নোনাপানি ঢুকে পড়বে। একবার লবণাক্ততা ঢুকলে আর তা ফেরানো সম্ভব হবে না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, মিঠাপানির স্তর নেমে গেলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও নগরবাসীর পানি নিরাপত্তা একসঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে।

ওয়াসার নিজস্ব হিসাবেই খুলনার ১৫ লাখ মানুষের দৈনিক চাহিদা প্রায় ২৪ কোটি লিটার পানি। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে ওয়াসা সরবরাহ করছে মাত্র ৬-৭ কোটি লিটার পানি। তারও বড় অংশ ভূগর্ভের। মধুমতী নদী থেকে প্রক্রিয়াজাত পানির পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম।

খুলনা নগরবাসী মনে করছেন, মধুমতীর ওপর নির্ভরতা বাড়াতে প্রয়োজন ছিল আধুনিক ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ক্ষমতা বাড়ানো, নদীর নাব্য রক্ষা এবং লবণাক্ততা মোকাবিলার প্রযুক্তি উন্নয়ন। কিন্তু এসবের পরিবর্তে ওয়াসা সহজ পথ হিসেবে ভূগর্ভস্থ থেকে পানি তোলাকেই প্রাধান্য দিয়েছে।

পরিবেশবিদ অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার মনে করেন, ওয়াসার নতুন প্রকল্প আসলে খুলনার ভবিষ্যৎ পানির সংকটকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। তার ভাষায়, ‘ভূগর্ভস্থ পানি তুলে সংকট মেটানোর চেষ্টা অস্থায়ী সমাধান। এতে শহরের অ্যাকুইফার ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এটি শুধু পরিবেশগত নয়, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও ডেকে আনবে।’

পরিবেশবিদদের বিশ্লেষণে একটি চিত্র স্পষ্ট, ওয়াসার অতিরিক্ত পাম্প স্থাপন এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়লে খুলনায় নোনাপানির অনুপ্রবেশ অনিবার্য হয়ে উঠবে। একবার নোনাপানি ঢুকে পড়লে তা ঠেকাতে প্রয়োজন হবে বহুগুণ বেশি ব্যয়, সময় ও প্রযুক্তি যা উন্নয়নশীল নগর হিসেবে খুলনার নাগালের বাইরে।

অন্যদিকে প্রকল্প ব্যয়ের বিপরীতে নগরবাসীকে যে নিরাপদ পানি সরবরাহ করার কথা ছিল, তা বাস্তবে এখনও বড় অংশই কাগুজে প্রতিশ্রুতি।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, খুলনার পানি সংকট এখন শুধু প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়; এটি টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা