পশ্চিমাঞ্চল রেল
রাজু আহমেদ, রাজশাহী
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৪৩ এএম
পশ্চিমাঞ্চল রেলে আপ-ডাউন মিলিয়ে ১৩০টি ট্রেন যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছে। যা থেকে টিকিট বিক্রি করে রেলের বছরে আয় হচ্ছে ৬১৩ কোটি টাকা। নিরাপদ এবং আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে পারায় ট্রেনের প্রতি যাত্রীদের আগ্রহ বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার যাত্রী বেড়েছে। এমতাবস্থায় যাত্রীসেবার মান আরও বাড়াতে রেল কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করছে।
তবে কোচ সংকট ও জলবল ঘাটতির কারণে চাহিদা থাকার পরেও এমন অনেক রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের দেওয়া তথ্য মতে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পযর্ন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৪ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এ সময় প্রতিদিন টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। চলতি বছরে জুন থেকে প্রতিদিন প্রায় ৯৬ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। টিকিট বিক্রি করে প্রতিদিন আয় হচ্ছে এক কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার যাত্রী পাওয়া গেছে।
গত অর্থবছরে টিকিট বিক্রি করে পশ্চিমাঞ্চল রেল আয় করেছে ৫১১ কোটি টাকা। যাত্রী চাহিদা এভাবে অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে এই আয় হবে ৬১৩ কোটি টাকা। এদিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলে ৫২ শতাংশ জনবল ঘাটতি রয়েছে।
এদিকে যাত্রী বাড়লেও রেলে পণ্য পরিবহন কমেছে। ফলে আয় কমেছে রেলের। দুই রুটে পণ্য পরিবহন করা হয়। একটি দেশের মধ্যে এবং অপরটি প্রতিবেশী দেশে পণ্য পরিবহন করা হয়। বেনাপোল ও রহনপুর দিয়ে পণ্য পরিবহন হতো। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এই রুটে পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। যে কারণে এই সেক্টরে রাজস্বও বন্ধ। একই সঙ্গে যাত্রী পরিবহনে ঘাটতি রয়েছে ২০ শতাংশ কোচ বা বগির। যেমন খুলনা-ঢাকা রুটের চিত্রা ট্রেনে এসি কোচের সংখ্যা বেশি, তবে ননএসি কোচের সংখ্যা কম। ফলে স্ট্যান্ডিং যাত্রীরা এসিতে চড়ছে। এটা রোধ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় কিছু লোকাল রুটে চলচল করা জনপ্রিয় ট্রেন বন্ধ করে ওইসব ট্রেনের কোচকে অন্য ট্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হয়েছে। উত্তরা ট্রেন এর মধ্যে অন্যতম।
বিদ্যমান ৪৮ শতাংশ জনবল দিয়ে চলছে রেলের এই গুরুত্বপূর্ণ রুট। ঘাটতি ৫২ শতাংশ জনবল। পশ্চিমাঞ্চলের সৈয়দপুরে রেলের নিজস্ব কারখানা রয়েছে। যেখানে তিনটি কোচ সংস্কারের জন্য কারিগরি ৬টি ইউনিটে প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন গড়ে তিনটি করে কোচ সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজন হয়। তবে জনবল ঘাটতিতে তা চাহিদার ৫০ শতাংশ সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে সময়মতো সংস্কার না করতে পারায় পড়ে থাকছে অনেক কোচ। যার প্রভাব গিয়ে পড়ছে রাজস্বে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের যাত্রীরা জানান, এই রুটে ১৩০টি ট্রেনের মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া রাজশাহী থেকে ঢাকা প্রতিদিন ৪টি ট্রেন যাতায়াত করে। এই রুটের প্রতিটি ট্রেনে গড়ে এক হাজার থেকে ১২০০ যাত্রী যাতায়াত করছে। যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় এই রুটে ট্রেনের টিকিট নির্ধারিত সময়ের আগেই বিক্রি হয়ে যায়। একই চিত্র খুলনা থেকে ঢাকা রুটের ট্রেনের। এমন অনেক রুট আছে যেগুলোতে আরও ট্রেন প্রয়োজন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, ট্রেনের প্রতি নাগরিকদের আস্থা বাড়ায় রেলের যাত্রী বাড়ছে। সেই সঙ্গে সরকারের রাজস্বও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। তবে পণ্য পরিবহন থেকে রেলের আয় কমেছে। যাত্রীদের ভ্রমণ সুবিধার কথা বিবেচনায় সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে রেলকে আরও উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা আছে। বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে যাত্রী সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি রেলকে লাভজনক করে তুলতে পশ্চিমাঞ্চল রেলের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ক্যাপশন : যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে নিয়মিত ট্রেনগুলোতে তদারকি করছে পশ্চিমাঞ্চল রেল কর্তৃপক্ষ