খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:২১ পিএম
খুলনা নগরীর প্রধান প্রবেশপথ গল্লামারি সেতুর দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় যানজট, ধুলাবালি এবং দুর্ভোগের প্রতিবাদে এক ঘণ্টার অচল কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি দীর্ঘসূত্রিতা, অনিয়ম ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতার কারণে ব্রিজ নির্মাণ অচল হয়ে আছে, আর এর দায়দায়িত্ব কেউ নিতে রাজি নয়।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসী’র ব্যানারে স্থানীয় নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এর আয়োজন করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গল্লামারি ময়ূর নদীর ওপর দুটি স্টিল ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর। নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৪ সালের ৩০ জুন। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও তাতেও কাজ শুরু হয়নি। ব্রিজগুলোর মধ্যে একটি ভেঙে ফেলার পর থেকেই যানজট অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
কর্মসূচিতে নাগরিক নেতা মিজানুর রহমান বাবু বলেন, আমরা কর-খাজনা ঠিকই দিই, কিন্তু উন্নয়ন যেন ভাগ্যের বিষয় হয়ে গেছে। গল্লামারি ব্রিজের কাজে যে দুর্নীতি ও ব্যর্থতা হয়েছে, তার জবাব কেউ দিতে চায় না। ডা. নাসির উদ্দিন জানান, প্রতিদিন এই ব্রিজ পার হতে মানুষের ৩০-৪০ মিনিট লেগে যায়। অথচ কেউ দায় নিতে প্রস্তুত নয়। আজকের এক ঘণ্টার অচল কর্মসূচি ছিল সতর্কবার্তা। সাত দিনের মধ্যে কাজ শুরু না হলে খুলনা অচল কর্মসূচির মতো কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।
জামায়াতে ইসলামীর মহানগর সেক্রেটারি অ্যাড. জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল বলেন, পূর্বের ঠিকাদার টাকা তুলে নেওয়ার দায় সড়ক ভবন এড়াতে পারছে না। এই জন্যই নতুন টেন্ডার, নতুন ব্যয়, নতুন প্রক্রিয়া সব মিলিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা চলছে।
বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সভাপতি ডা. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগরী সহ-সভাপতি মা. নাসির উদ্দিন, হরিণটানা থানা জামায়াতের আমীর আব্দুল গফুর, বিএনপির নেতা নিজামুর রহমান লালু, নাগরিক নেতা মিজানুর রহমান বাবু, পোলট্রি ও ফিশ ফিড শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এস. এম. সোহরাব হোসেন প্রমুখ।