সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৫ পিএম
সদরপুর সরকারি কলেজ। প্রবা ফটো
ফরিদপুরের সদরপুর সরকারি কলেজের শ্রেণিকক্ষ দখল করে কয়েকজন শিক্ষক বাস করছেন, আবার কোচিংও করাচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলেছে শিক্ষার্থীরা। তারা বলছে, এই শিক্ষকরা নিয়মিত কলেজে আসেন না, ক্লাসও নেন না।
এ বিষয়ে অনেক অভিযোগ অভিভাবকদেরও। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযোগ করেন, সদরপুর সরকারি কলেজটিতে চরম অব্যবস্থাপনা রয়েছে। প্রশাসনিক শিথিলতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ কার্যত ভেঙে পড়েছে।
অভিভাবকদের প্রশ্ন- শিক্ষকরা যদি ক্লাসে না এসে কোচিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তবে শিক্ষার্থীদের কী হবে? তারা কর্তৃপক্ষের কাছে এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজটির একাডেমিক ভবনের একাধিক কক্ষ দখল করে ‘টিচার্স কোয়ার্টার’ বানিয়ে বসবাস করছেন কতিপয় শিক্ষক।
কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযোগ করেন, স্যাররা ক্লাসে ঠিকমতো পড়ান না। কিন্তু তাদের কাছে প্রাইভেট পড়লে ওই একই ক্লাসরুমে খুব যত্ন করে পড়ান। সরকারি ফ্যান, লাইট আর বেঞ্চ ব্যবহার করে তারা ব্যক্তিগত ব্যবসা করছেন, এটা স্পষ্ট অনিয়ম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলেজটিতে প্রতিষ্ঠানে ৪০ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও নিয়মিত কলেজে আসেন অর্ধেকেরও কম। তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন তারা এই অনিয়ম করে যাচ্ছেন।
নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় সিলেবাস শেষ করা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানান শিক্ষার্থীরা।
কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে এখানে ভর্তি হওয়ার পর দেখি স্যারদের ব্যবসায়িক চিন্তাই বেশি। একাডেমিক ভবনে স্যাররা থাকেন, এটা কেমন নিয়ম? আমরা এর দ্রুত সমাধান চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে একাডেমিক ভবনে বসবাসরত এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পর্যাপ্ত সরকারি কোয়ার্টার না থাকায় বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়েই এখানে থাকছি। তবে এ কারণে ক্লাসের ওপর কোনো প্রভাব পড়ছে না।’
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. এনামুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘থাকার জন্য পর্যাপ্ত কোয়ার্টার না থাকায় শিক্ষকরা একাডেমিক ভবনে থাকছেন। এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েই কোচিং পরিচালিত হচ্ছে।’
কলেজটির অব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে অবগত বলেই জানালেন সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন।
তিনি বলেন, ‘সদরপুর সরকারি কলেজের যে দুটি বিষয়ে অভিযোগ এসেছে, আমি অবগত হলাম। আমি এখানে নতুন এসেছি, বিষয়টি সম্পরের্ক খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’