জয়পুরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:৩০ পিএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:৫০ পিএম
প্রতীকী ছবি
জয়পুরহাটে মধ্যরাতে এক পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার চিরলা গ্রামে একই বাড়িতে বসবাস করা সত্ত্বেও পাশের ঘরে ঘুমন্ত স্বজনরা হামলার কোনো শব্দ শুনতে পাননি। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।
মঙ্গলবার
(২ ডিসেম্বর) রাত ৩টার দিকে সদর উপজেলার চকবরকত ইউনিয়নের চিরলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম নুরুন্নাহার বেগম (৪৫)। তিনি চিরলা গ্রামের আব্দুল গফুরের মেয়ে। তিনি স্বামী
পরিত্যক্তা ছিলেন। আর আহত খাদিজা (১৫) একই গ্রামের আব্দুল মতিনের মেয়ে। সে পল্লীবালা
বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। নুরুন্নাহার ও খাতিজা সম্পর্কে ফুফু-ভাতিজি।
নিহতের ভাবি
মীম আক্তার জানান, আমি, আমার ছোট মেয়ে, শ্বশুর, ননদ নুরুন্নাহার ও ভাতিজি খাতিজা একই
বাড়িতে থাকি। মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে রাত ৯টার দিকে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। ননদ ও ভাতিজি
একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ৩টার পর তাদের ঘর থেকে জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার শব্দ পাই। তখন
দরজা খুলতে গিয়ে খুলতে পারিনি, বাহিরে সিটকানি দেওয়া ছিল। পরে আমার ভাসুরকে কল করে
ডেকে নিই। বের হয়ে দেখি ননদ রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানা উপর পড়ে আছে, আর ভাতিজি নিচে।
ঘটনার সময় পাশের রুমে কোনো হৈচৈয়ের শব্দ পাননি বলে তিনি জানান।
প্রতিবেশী
হাফিজুর রহমান বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে চেঁচামেচির শব্দ শুনে ওই বাড়িতে যাই। সেখানে
গিয়ে দেখি নুরুন্নাহার বিছানার উপর পড়ে আছে। আর নিচে খাতিজা পড়েছিল। স্বজনরা দ্রুত
তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নুরুন্নাহার মারা যান। তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়।
আর খাদিজাকে বগুড়া মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
সদর সার্কেলের
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদেরসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা বলেন, নুরুন্নাহার
নামে এক মহিলাকে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমরা জানতে পরি
নুরুন্নাহার এবং তার ভাতিজি খাদিজা একই ঘরে থাকত এবং ওই ঘরে সুকৌশলে কেউ প্রবেশ করে
টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে তার ফুফুকে আহত করে। পরবর্তী সময়ে তার ফুফু মারা যায়। ভাতিজি খাদিজা গুরুতর আহত হয়। সে বর্তমানে বগুড়া মেডিকেলে
ভর্তি আছে। আমরা ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা জানা
যাবে।