গবেষণা পরিচালনায় আগ্রহী ছয় প্রতিষ্ঠান
হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:২৬ এএম
প্রথম দফায় মেয়াদ ছিল ২০২০-২৩ সাল। এরপর সংশোধন করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৫ সাল পর্যন্ত। এই বর্ধিত সময়ে বাস্তবায়ন হয়নি গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণে পাইলট প্রকল্প। গবেষণার জন্য জাহাজ ক্রয়ে জটিলতার কারণেই আটকে যায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন। ৫ বছর ধরে আটকে থাকা প্রকল্পটিতে অবশেষে গতি আসতে শুরু করেছে। দ্বিতীয় দফায় সংশোধন করে জাহাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ভাড়ায় জাহাজ এনে গবেষণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে প্রকল্পের কাজ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে
পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর দরপত্র আহ্বান করার পর ৬টি প্রতিষ্ঠান
পরামর্শক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এখন দরপত্র মূল্যায়ন করে শর্ট লিস্ট
করার কাজ চলছে। দরপত্র মূল্যায়নের পর এই ছয় প্রতিষ্ঠান থেকে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক
হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ড.
মো. জুবায়দুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য আমরা
গত ৯ অক্টোবর দরপত্র আহ্বান করেছিলাম। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত (জমা দেওয়ার শেষ তারিখ) ৬টি
প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। এগুলো থেকে শর্ট লিস্ট করার জন্য গত ১৯ নভেম্বর মূল্যায়ন
কমিটি প্রথম দফায় বৈঠক করে। এরপর আজ মূল্যায়ন কমিটি আবারও বৈঠকে বসবে।
কবে নাগাদ চুক্তি স্বাক্ষর করা
হতে পারে জানতে চাইলে ড. মো. জুবায়দুল আলম বলেন, ‘প্রপ্রোজাল ফর ইন্টারেস্ট মূল্যায়ন
করার পর বিস্তারিত প্রস্তাবনা জমা দিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৪২ দিন সময় দিতে হবে। এরপর
এক মাসের মধ্যে মূল্যায়নে যেই প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষে থাকবে, সেটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর
হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাহাজ আনার জন্য তিন মাস সময় দিতে হবে। আমরা আশা করছি,
আগামী বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যে জাহাজগুলো চলে আসবে। এরপর সেপ্টেম্বর থেকে গভীর
সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণের গবেষণা শুরু হবে। কারণ শীতকালই বেশি টুনা
মাছ আহরণের সময়।
২০১৮ সালে ইন্ডিয়ান ওশান টুনা কমিশনের
(আইওটিসি) সদস্যপদ পায় বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলসীমায় (বঙ্গোপসাগর
ও ভারত মহাসাগরের জলসীমা) মাছ ধরার অধিকার পেয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাছ
ধরার মতো জাহাজ এবং সেখানে কী পরিমাণ মাছ আছে, কতটুকু আহরণ করা সম্ভবÑ এসব বিষয়ে কোনো
তথ্য না থাকায় সেই সম্পর্কে ধারণা নিতেই গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণে
পাইলট প্রকল্প নেয় মৎস্য অধিদপ্তর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩
সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ ধরা হয়। ওই সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায়
মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু জাহাজ কেনা নিয়ে জটিলতার কারণে
শেষ পর্যন্ত ওই সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি। পরে টুনার অর্থনৈতিক গুরুত্ব
বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি জাহাজ কেনার
পরিবর্তে ২টি লং-লাইনার প্রকৃতির জাহাজ ভাড়া নিয়ে টুনা ও পেলাজিক মাছ আহরণ ও গবেষণার
সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা কমিশন গত ১১ আগস্ট প্রকল্পটির মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত
বৃদ্ধি করে এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ৪১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে প্রকল্পটির দ্বিতীয়
সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন করে। এরপর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কাজ শুরু করে প্রকল্প
বাস্তবায়ন কমিটি।
প্রকল্পটির টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) অনুযায়ী, পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কাজগুলো হলোÑ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের বাংলাদেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড) ও তার বাইরে উপযুক্ত টুনা মাছ ধরার ক্ষেত্র/অঞ্চল চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর জৈবিক উৎপাদনক্ষমতা, ঋতুভিত্তিক পরিবর্তন ও টুনা আহরণের উপযোগিতা মূল্যায়ন করা। ইন্ডিয়ান ওশান টুনা কমিশন (আইওটিসি) মানদণ্ড অনুযায়ী পরিবেশগতভাবে টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে অনুবর্তী টুনা শিকার কৌশল প্রণয়ন করা।