ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:০৪ পিএম
নিষ্ঠুরভাবে সদ্যপ্রসূত ৮টি কুকুরছানাকে বস্তায় বেঁধে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুকুরের ধারে মা কুকুরের চিৎকার দেখে উপস্থিত হন এলাকাবাসী। নির্মম এবং হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে।
কুকুরছানাগুলোর অপরাধ, তারা বাসার দরজার সামনে বারবার ডাকাডাকি করেছে। আর এতেই বিরক্ত হয়ে তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারী নিশি রহমান। তিনি উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির কথা
এলাকায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক মাধ্যমসহ প্রকাশ্যে অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
ব্যক্ত করেন। মর্মাহতরা অপরাধীর দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে
সামাজিক মাধ্যমজুড়ে বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনের কেয়ারটেকার
জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘গেজেটেড ভবনে মা কুকুর সম্প্রতি আটটি ছানা প্রসব করে। রবিবার
সন্ধ্যার পর ছানাগুলোকে দেখতে না পেয়ে মা কুকুরটি হন্যে হয়ে এদিক-সেদিক খোঁজ করার
পাশাপাশি শব্দ করে কাঁদতে থাকে। সারারাতই মা কুকুরটিকে অফিসার্স ক্লাব এবং আবাসিক এলাকার
বিভিন্ন বাসার দরজায় দরজায় ঘুরতে দেখা গেছে।’
এ সময় খাবার দিলেও মা কুকুর কোনো খাবার মুখে
তোলেনি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তখনও জানি না, ছানাগুলো নেই। গতকাল (সোমবার) সকালে
ইউএনও স্যারের আবাসিক ভবনের সামনে দিয়ে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা
হাসানুর রহমান নয়ন স্যার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় তার কাছে কুকুরছানার
বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। কিন্তু এ সময় তার ছোট ছেলে বলে ওঠে
আম্মু কুকুরের বাচ্চাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পরে পুকুরে গিয়ে মুখ বাঁধা বস্তা
ভাসতে দেখে তুলে এনে বস্তার মুখ খুলে মৃত কুকুরছানাগুলোকে দেখি।’
জানা যায়, ছানাগুলোর মালিক ছিলেন সদ্য বদলি
হওয়া ঈশ্বরদীর সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা সুবির কুমার দাশ। বর্তমানে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত
জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তা কুকুরছানা হত্যার খবর পেয়ে গভীর শোক প্রকাশ
করে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘আমি ওদের সবকিছু ঠিকভাবে দেখভালের ব্যবস্থা করেই এসেছিলাম।
আজ এমন নিষ্ঠুর খবর শুনে মর্মাহত। আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান
বলেন, ‘ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা জরুরি বৈঠক করেছি। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
তবে অভিযুক্ত ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের
কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী নিশির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে
পাওয়া যায়নি। তবে তার স্বামী ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়ন
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত। এর বেশি কিছু বলতে
পারছি না।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা
খাতুন জানান, ‘এটা খুবই অমানবিক। মা কুকুর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে আমাদের লোকজন চিকিৎসা
দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই অমানবিক ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। এমন
নিষ্ঠুরতার কোনো জায়গা নেইÑ আইনগত প্রক্রিয়াও চলবে।’
প্রসঙ্গত, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসনের
ডাকা জরুরি সভায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার
নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়েছে।